একজন ত্যাগী হাবীবুন্নবী সোহেল ও তার মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

আওয়ামী লীগ সরকার কাউকে ছাড়েনা। আওয়ামী লীগের লেজে যারা পা দেয়, তাদেরকে ওরা ছাড়ে না। সর্বশেষ এটা আবার বুঝলাম বিএনপি নেতা এবং সাবেক ছাত্রদল সভাপতি হাবীবুন্নবী খান সোহেলকে আটকের ঘটনায়। যারা রাজনীতি নিয়ে সচেতন তারা জানেন, বিএনপি গত ১০ বছরে দল হিসেবে তেমন কোন সফল আন্দোলন করতে পারেনি। কিন্তু এ দলেও কিছু ত্যাগী নেতাকর্মী আছেন যারা দলের জন্য আন্তরিকতার জন্যই কাজ করেন। ঝুঁকি নেন, ত্যাগ স্বীকার করেন। এরকমই একজন নেতা হলেন বিএনপির ঢাকা মহানগরী দক্ষিন শাখার বর্তমান সভাপতি হাবীবুন্নবী খান সোহেল।

পাঠকের মনে থাকার কথা, বেগম খালেদা জিয়া কথিত জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ের দিন আদালতে যাওয়া নিয়ে বিরাট ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি যাবেন কি যাবেন না- সেই নিয়ে অনেকেরই সংশয় ছিল। কিন্তু নিশ্চিত জেল জেনেও খালেদা জিয়া সেদিন আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

আদালতে যাওয়ার সেই ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই হাবীবুন্নবী খান সোহেলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। কেউ কেউ বলছিল, তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। আবার সরকার বলছিল, সোহেল লুকিয়ে আছেন। সোহেল তখন আসলে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি মোবাইলের মাধ্যমে তার জনশক্তিদেরকে মাঠে থাকার ব্যাপারে কাজ করছিলেন, নিয়মিত যোগাযোগ করছিলেন।

খালেদা জিয়া সেদিন একটি বহর নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন। তার বহরটি যখন মগবাজারের কাছাকাছি পৌছায় তখন কোথা থেকে যেন সেখানে হাবীবুন্নবী সোহেল উদয় হন। তিনি নেত্রীর জানালা ধরে বাকিটা পথ পাড়ি দেন। তার নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেদিন সেই মিছিলে যোগ দেয়। বিএনপির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সফল সেই শোডাউনে সোহেলের সেই ভুমিকা আসলেই মনে রাখার মত। তখন থেকেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ।

সেদিনের শোডাউনের আরেক নেপথ্যের নায়ক ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানকে সেদিনই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আর সোহেল তখন থেকেই পুলিশের চক্ষুশূল। অনেকদিন খোঁজাখুুঁজির পর অবশেষে গতকাল গুলশান থেকে এই তরুন সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়। বোঝাই যাচ্ছে, দীর্ঘদিন তাকে না পাওয়ায় তার উপর ঠিকমতই রাগ ঝাড়বে পুলিশ, মামলাও দিবে অনেক।

সেটা আরো নিশ্চিত হওয়া গেছে পুলিশের আচরণে। সোহেলকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে খবর পেয়ে যখন তার পরিবার, পরিজন, নেতাকর্মীরা ডিবি অফিসের সামনে ভীড় করে তখন তাদের সাথেও ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে পুলিশ। রাতে সোহেলের স্ত্রী ও কন্যা যখন সোহেলের ডায়াবেটিসের ঔষধ দেয়ার জন্য ডিবি অফিসে যায় তখন তাদেরই চোখের সামনে সেখানে উপস্থিত ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। যেন সোহেলের খোঁজ নিতে যাওয়াটাও আইনের চোখে ঘোর অপরাধ। মজার ব্যপার হলো, আটককৃতদের মধ্যে মাছরাঙ্গা টিভির কর্তব্যরত সাংবাদিক নাহিয়ানও আছেন। আরো আছেন ঢাকা দক্ষিন শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান প্রিন্স, গেন্ডারিয়া থানা বিএনপি নেতা ওমর মোতালেব টিটু, হাবীবুন্নবী সোহেলের গাড়ির ড্রাইভার শিপন এবং জুনিয়র দুই আইনজীবী। পুরো ঘটনাটি হাবীবুন্নবী খান সোহেলের মেয়ে জান্নাতুল এলমি সূচনা পরবর্তীতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে এভাবে লিখেছেন।

ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি.. রাত ১২টা প্রায় .. ডিবির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি আর মা … সাথে আছে প্রায় ২৫-৩০জন আংকেল … একটু আগেই আমরা বাবার ঔষধ দিতে গিয়েছিলাম গেটে … তাড়িয়ে দিলো আমাদের … অপেক্ষা করছি এপাড়ে ফুটপাতে …

ঐতো তিনজন লোক ডিবি অফিস থেকে এদিকেই আসছে দেখি … এবার মনে হয় ঔষধগুলো দিতে দিবে … হুট করে সব লন্ডভন্ড হয়ে গেল চোখের সামনে ! তাদের পিছে আসলো আরও কয়েকজন … একেবারে শকুনের মতো তারা তুলে নিয়ে গেল ২৫-৩০জন আংকেলকে …

ঠিক ২মিনিটের মাথায় পুরো ফুটপাত শূণ্য … দাঁড়িয়ে আছি শুধু তিনটা মেয়ে এই জনশূণ্য রাতে …

এই স্বাধীনতা , মানবাধিকারের বুলি আওড়াতেই বুঝি ৭১ এ নিজেদের পতাকা পেয়েছিলাম তাইনা ? আইনের শাসন শুধু দুইটা শব্দ এদেশে আর কিচ্ছুনা … সবাই যেন মিউজিকাল চেয়ার খেলে এখানে … একটা চেয়ারে বসতে এত টানাটানি যে চেয়ার দেখতে গিয়ে মানুষ হবার সব গুণ আমাদের বিলুপ্ত প্রায় … এদেশে কোনো কেনোর কোনো উত্তর নেই …

Source: analysisbd.com

Facebook Comments

comments