‘পুলিশ অন্যায়-হয়রানি করলে পোশাক খুলে নেওয়া হবে’

গাজীপুরের নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার বলেছেন, ‘পুলিশের কোনো সদস্য অন্যায় করলে বা জনগণকে হয়রানি করলে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ওই পুলিশ সদস্যের পোশাক খুলে নেওয়া হবে। সত্যিকারের জনবান্ধব পুলিশিং বলতে যা বোঝায়, আমরা গাজীপুরে তা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

গতকাল পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে গাজীপুরে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, তিনটি বিষয়ে তিনি জিরো টলারেন্সের ভিত্তিতে কাজ করবেন। সর্বোচ্চ শক্তি ও আন্তরিকতা দিয়ে জেলাকে পর্যায়ক্রমে মাদকমুক্ত, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং সন্ত্রাস নির্মূলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

মনবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্যে জেলার নানা সমস্যার চিত্র, অভিযোগ ও অনিয়ম তুলে ধরে এগুলো সমাধানে পুলিশ সুপারের ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে গাজীপুরের ঐতিহ্য তুলে ধরে বিরাজমান সমস্যা ও অভিযোগ সমাধানে তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট নিরসনে তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে উল্লেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার বলেন, গাজীপুরে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, সড়ক-মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন চালক এবং ফিটনেসবিহীন অবৈধ যানবাহন বন্ধ করা হবে। তিনি গাজীপুরে জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করেন। এ জন্য তিনি সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ, মো. গোলাম সবুর, মো. আমিনুল ইসলাম ও পংকজ দত্ত। অনুষ্ঠান শেষে গাজীপুরের পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানান।

গত ২৬ আগস্ট এসপি শামসুন্নাহার গাজীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন।

বেগম শামসুন্নাহার এর বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবিয়া ইউনিয়নে। ২০০১ সালে বিসিএস পাশ করে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করে তিনি মানিকগঞ্জ, ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া ২০১১-২০১৪ পর্যন্ত জাতিসংঘের শাখা অফিস ইতালীতে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন শামসুন্নাহার। ২০০৯-২০১০ পর্যন্ত পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘ মিশনের মাধ্যমে পূর্ব তিমুর জাতীয় পুলিশের মানব সম্পদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তাছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে Chevening scholarship এর মাধ্যমে এমবিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে এমফীল, ১৯৯৮ সালে এমএসএস এবং ১৯৯৬ সালে বিএসএস ডিগ্রী লাভ করেন তিনি।

এমনকি জাতিসংঘে দীর্ঘদিন উচ্চ পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি স্বরূপ ৭ বার জাতিসংঘ শান্তি পদক লাভ করেন বেগম শামসুন্নাহার। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি স্বরূপ ২ বার আইজি ব্যাজ পান তিনি।

পেশাগত ও ব্যাক্তিগত কারণেও তিনি যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানী, ইতালী, ভ্যাটিকান সিটি, অষ্ট্রেলিয়া, পূর্ব তিমুর, সিংগাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, দুবাই, কাতারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমন করেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি।

Source: bd-pratidin.com & kalerkantho.com

Facebook Comments

comments