৮ মে জামিন পাচ্ছেন খালেদা জিয়া?

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বিশ্বাস করেন, আগামী ৮ মে সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে তিনি জামিন পাবেন। শনিবার (৫ মে) বিকালে বিএনপিপন্থী পাঁচজন আইনজীবী কারাগারে গেলে তাদের কাছে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন খালেদা জিয়া।

শনিবার বিকাল ৪টায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবসহ ওই আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কারাগার থেকে বেরিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আশাবাদের কথা জানান। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার দ্রুত ফিজিওথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কারাগারে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “খালেদা জিয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি আমাদের বলেছেন, ‘আমাকে রাজনৈতিক কারণে জেলে রাখা হয়েছে, হয়তো সাজা দিয়েছে, সেখানে আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। কোনও চেকে আমি সাইন করিনি। অযথা আমাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ।”

মানবিক কারণে হলেও বেগম জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি দাবি করেন, ‘এটা না করা সরকারের অমানবিক আচরণ। এ কারণে ক্ষুণ্ন হয়েছেন। কিন্তু তিনি মনোবল হারাননি। মিথ্যে মামলায় সঠিক হয়নি। এখনও বিশ্বাস করেন, মিথ্যে মামলায় দেওয়া সাজা বাতিল হবে এবং তিনি জামিন পাবেন।’

অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আইনজীবীরা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। জেল কর্তৃপক্ষের সুপারিশের পরেও আমরা যা জানতে পারলাম, তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে সরকার গরিমসি করছে।’

তিনি বলেন, ‘এ কারণে তার (খালেদা জিয়া) স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, চেয়ারপারসনের ফিজিওথেরাপি করা দরকার জরুরিভিত্তিতে। জেলখানায় ফিজিওথেরাপির ব্যবস্থা নেই। তার চিকিৎসকেরাও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন।’

খন্দকার মাহবুবের সঙ্গে কারাগারে যাওয়া বাকি আইনজীবীরা হলেন আব্দুর রেজ্জাক খান, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

জামিনের বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “জামিনের বিষয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) জানতে চাইলেন, ‘কী অবস্থা?’ আমরা তাকে বলেছি, দেশে যদি বিন্দুমাত্র আইনের শাসন অবশিষ্ট থাকে তাহলে হাইকোর্ট যে রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে তাকে জামিন দিয়েছেন, সেই জামিন সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ স্থগিত করার নজির নেই। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট যেকোনও কারণেই হোক তার জামিন স্থগিত করেছেন। ৮ মে শুনানির দিন রয়েছে, আমরা আশা করি, ইনশাল্লাহ দেশে যদি বিচারের বিন্দুমাত্র পথ এখনও খোলা থাকে, তাহলে অবশ্যই আমাদের চেয়ারপারসনকে জামিন দেওয়া হবে।”

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments

comments