খালেদার চেয়ে হাসিনা বেশি জনপ্রিয়: জয়ের তথ্য নাকচ করল আইআরআই

জাহেদ আরমান

বাংলাদেশের কয়েকটি মূলধারার গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপালিকান ইন্সটিটিউট’এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বিএনপি ও খালেদা জিয়ার চেয়ে বেশি জনপ্রিয়। অনেক পাঠক বিডি ফ্যাক্টচেক-এর কাছে সংবাদটির সত্যতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

বিডি ফ্যাক্টচেক এর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যম সংবাদটিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করেছে। অধিকাংশ গণমাধ্যম সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসের উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন করেছে। মুল গবেষণায় কী বলা হয়েছে সেদিকে নজর দেয়নি।

“খালেদা জিয়ার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় শেখ হাসিনা : জয়” শিরোনামে সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্ধৃত করে দৈনিক ইত্তেফাক লিখেছে, “বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি সংস্থার জরিপের তথ্য তুলে ধরে শনিবার মধ্যরাতে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন।”

বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম লিখেছে, “খালেদা জিয়ার চেয়ে শেখ হাসিনা বেশি জনপ্রিয়: আইআরআই”

দৈনিক যুগান্তর লিখেছে, “খালেদা জিয়ার চেয়ে শেখ হাসিনা বেশি জনপ্রিয় : জয়”

বাংলাদেশ প্রতিদিন লিখেছে, “শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বেশি জনপ্রিয়”

আরটিভি শিরোনাম করেছে, “শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা খালেদা জিয়ার চেয়ে বেশি: জয়”

কালের কণ্ঠের শিরোনাম, “বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে”

ঢাকা টাইমস’এর শিরোনাম, “শেখ হাসিনা বেশি জনপ্রিয়: জরিপ তুলে ধরে জয়”

প্রথমত, অধিকাংশ গণমাধ্যম প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্ঠা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে সংবাদের উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম ফোকাস গ্রুপ পদ্ধতি আর জরিপ পদ্ধতি দুটোকে গুলিয়ে ফেলেছে।

মূল প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে:

“বাংলাদেশ: ডেইলী চ্যালেঞ্জেস- পাবলিক অপিনিয়ন অন ইকোনোমিকস, পলিটিকস অ্যান্ড সিকিউরিটি” শীর্ষক এই স্টাডিটি করা হয়েছিলো ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসে। ফোকাস গ্রুপ পদ্ধতির সাহায্যে অর্থনীতি, রাজনীতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে ১৩০ জন বাংলাদেশীর মতামত নেওয়া হয়। গবেষনায় অংশগ্রহণকারী ১৩০ জনের অধিকাংশই স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদান ও সাম্প্রতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে, অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই বিএনপি, খালেদা জিয়া ও জামায়াত ইসলামীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।

মূল প্রতিবেদনের ফাইন্ডিংস থেকে এটা স্পষ্ট যে এই গবেষণায় জনপ্রিয়তা যাচাই করা হয়নি।

১৩০ জন অংশগ্রহণকারী পুরো বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না:

সংবাদটির সত্যতা যাচাইয়ে ইন্টারন্যাশনাল রিপালিকান ইন্সটিটিউট-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ডিরেক্টর জুলিয়া সিবলী বিডি ফ্যাক্টচেককে জানান, দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য ফোকাস গ্রুপ আলোচনা করা হয়নি, বরং রাজনীতি নিয়ে সাধারণ আলোচনার অংশ হিসেবেই রাজনৈতিক দলের কথা এসেছে।

স্ক্রিনশট: ইন্টারন্যাশনাল রিপালিকান ইন্সটিটিউট-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জুলিয়া সিবলীর বক্তব্য

তিনি আরও বলেন, এই গবেষণায় মাত্র ১৩০ জন অংশগ্রহণকারী রয়েছেন যা কখনও বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যাকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

ফোকাস গ্রুপ আলোচনা জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য কার্যকরী পদ্ধতি না:

এডিনবরো ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার প্রফেসর জেমস রেইমন্ড ওয়াটর্স বলেন, জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য ফোকাস গ্রুপ আলোচনা খুব ভালো একটা পদ্ধতি না। সাধারণত রাজনৈতিক দল ও দলপ্রধানের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য জরিপ পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সূত্র: বিডি ফ্যাক্টচেক

Facebook Comments

comments