আ.লীগ এমপি ইসরাফিলকে লাঠি-সোটা নিয়ে গ্রামবাসীর ধাওয়া (ভিডিও)

নওগাঁ রাণীনগর উপজেলায় খাস পুকুর দখল করাকে কেন্দ্র করে নিহত আজিম উদ্দিনের জানাজায় স্থানীয় এমপি ইসরাফিল আলমকে অংশগ্রহন করতে দেয়নি ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীরা। তিনি জানাজায় অংশগ্রহন করতে গেলে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা তাকে বাধা দেয় ও ধাওয়া করে। পুলিশের সহায়তায় তিনি দৌড়ে সেই স্থান ত্যাগ করেন এবং এমপির গাড়ি থেকে খুনের অভিযোগে ছাত্রলীগের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, দুর্বৃত্তদের লাঠি সোটা, লোহার রড ও হাতুড়ের আঘাতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা আজিম উদ্দিনকে রাণীনগর হাসপাতালে চিকিৎসাও করতে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে আদমদিঘী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে থেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠাতে অনেক দেরি হওয়ায় পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহত আজিম উদ্দিন রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি।

নওগাঁ জেলা পুলিশের মিডিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ডিএসবি ফারজানা হোসেন বলেন, রাণীনগর উপজেলার করজগ্রাম সখিনপাড়া মসজিদের খাস পুকুরটি মসজিদের নিকট থেকে লিজ নিয়ে প্রায় ১৪/১৫ বছর মাছ চাষ করে আসছিলেন নিহত আজিম উদ্দিনের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম। হঠাৎ করে ২৭ মে রবিবার দুপুর অানুমানিক ২টায় মোঃ সাহাদত হোসেন সায়েম, নাজমুল হক মাসুম, আব্দুল আজিজ, রহিমসহ ৩০/৩৫ জন মোটরসাইকেলযোগে ঐ পুরকুরপাড়ে গিয়ে স্থানীয় এমপি’র নাম ভাঙ্গিয়ে বলে, এই পুকুর তারা লিজ নিয়েছে এখন সেখানে মাছ ছাড়বে।

এই ঘটনায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সায়েম ও তার দলবল লাঠিসোটা, লোহার রড, হাতুড়ী ইত্যাদি দিয়ে আক্রমণ করে। এতে আজিম উদ্দিনসহ তার ভাই শহিদ, জালাল ও তাদের মা মানিকজান বেওয়াসহ বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়। এদের মধ্যে আজিম উদ্দিনের অবস্থা বেশী আশংকাজনক হয়।

এই ঘটনায় রবিবার গভীর রাতে নিহতের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী সায়েমকে প্রধান আসামি করে ৪০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল আকতার, সহকারী পুলিশ সুপার সদর দপ্তর মতিয়ার রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সূত্র আরও জানায়, সন্ধ্যার পর অানুমানিক সাড়ে ৭টায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের গাড়ি থেকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযুক্ত সাহাদত হোসেন সায়েম, মোঃ নাজমুল হক মাসুম, আব্দুল আজিজ ও মোঃ রহিমকে এবং অন্যত্র থেকে আমিনুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে রাণীনগরে সায়েমের অফিস তল্লাশী করে আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র এবং বিভিন্ন রকমের মদ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত সাহাদত হোসেন সায়েম সদর উপজেলার চকবুলাকী গ্রামের এচাহাকের পুত্র, নাজমুল হক মাসুম রাণীনগর উপজেলার পশ্চিম বালুভরা গ্রামের জালাল উদ্দিনের পুত্র, আব্দুল আজিজ রাণীনগর উপজেলার মধ্যরাজাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র এবং মোঃ রহিম পশ্চিম বালুভরা গ্রামের রাজ্জাকের পুত্র। আমিনুর রহমানের পিতার নাম ও ঠিকানা পুলিশ জানতে পারেনি।

জানা গেছে সোমবার বিকালে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোয়েব হোসেন (২৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিল্টন খন্দকার (৩৮), ছাত্রলীগের কর্মী নয়ন সর্দার (২৪)।

জানাজায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমপি ইসরাফিল আলম বলেন, স্থানীয়রা ভুল বুঝে রাগ করে আছে হয়তো। তাই আমাকে জানাজায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। তাদের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে আমি জানাজায় অংশগ্রহন করিনি।

ইসরাফিল আলমের গাড়ি থেকে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে এমপি কোনো কথা বলতে চাননি।

তথ্যসূত্র: ইত্তেফাক

Facebook Comments

comments