সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান: ছাত্রলীগের গোপন বৈঠক, আনা হচ্ছে অস্ত্র (ভিডিও)

ভিসির বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেও আন্দোলনকারীদের দমাতে না পেরে নতুন কৌশলের দিকে নজর দিয়েছে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসের বাহির থেকে অস্ত্র ও বহিরাগত নেতা-কর্মীদের জড়ো করে টিএসসি কেন্দ্রিক অবস্থান নেয়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। আজ বিকেলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে ২০ জনের এক প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য যাওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যান্টিনে জড়ো হতে থাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে এসময় সেখানে যোগ দেন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি বায়েজিদ আহমেদ খান, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনসহ দুই মহানগরের বেশ কয়েকজন নেতা। গোপন এ বৈঠকে অংশ নেয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র এবং লাঠি-সোটা জড়ো করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের প্রচুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোটা সংস্কারের বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আগামী ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোমবার সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে ফিরে প্রতিনিধি দলের নেতা হাসান আল মামুন আন্দোলন স্থগিত রাখার বিষয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জনান। এ সময় উপস্থিত শত শত শিক্ষার্থী ‘মানি না, মানবো না’- বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ঠিক এসময়েই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি বেড়ে যায়। এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের প্রস্ততি নেয়।

যেকোন সময় তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বড় ধরণের আক্রমণ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের

এর আগে সচিবালয় থেকে ২০ প্রতিনিধি ফিরে এসে তাঁদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানালে আন্দোলনকারীরা তাদের উদ্দেশে, ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়।

আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত শোনার সঙ্গে সঙ্গে ‘মানি না, মানি না’ বলে চিৎকার করে আন্দোলনকারীরা।

প্রতিনিধিরা তখন বলতে থাকে, ‘আপনারা যদি আমাদের সিদ্ধান্ত না মানেন তাহলে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে সরে যাব।’

হাসান আল মামুন বলেন, ‘এক মাসে দুই বার প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকবেন, কেবিনেট মিটিংয়ে আলোচনাটা দেরি হবে বিধায় এক মাস পেছানো হচ্ছে। এক মাসের মধ্যে দাবি আদায়ে কার্যকরী সিদ্ধান্ত না হলে প্রয়োজনে আগামী ৭ মে থেকে ফের আন্দোলন।’

আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক এ কথা বলার পর ‘ভুয়া’, ‘মানি না’, ‘মানব না’ বলে স্লোগান দিতে থাকে বিক্ষুব্ধ সাধারণ আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীরা বলে, আগামী মাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা। শুরু হবে রমজান মাস। এই পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে মুলা ঝুলিয়েছে সরকার। তারা সিদ্ধান্ত মানবে না। কোটা সংস্কারের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের নেতৃত্বে বৈঠকে ২০ সদস্য অংশ নেয়। আজ সোমবার সেতু মন্ত্রণাল‌য়ের কনফা‌রেন্স রু‌মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মী কানিজ ফাতেমা, আফসানা সাফা, একরামুল হক, আল ইমরান হোসাইন, লীনা মিত্র, আরজিনা হাসান, লুবনা জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: এনটিভি ও সংবাদ২৪৭

Facebook Comments

comments