হামলাকারীর মামা সরাসরি সজিব ওয়াজেদ জয়ের সাথে সংযুক্ত!

একেএম ওয়াহিদুজ্জামান

জাফর ইকবালের উপর হামলার রাজনীতিকরণ করা শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অগত্যা, এই হামলার সাথে রাজনৈতিক সংযোগের পোস্টমর্টেম করা জরুরী মনে করছি।

হামলাকারী ফয়জুর রহমানের বাসায় গিয়ে পুলিশ সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পায়। তালা খুলে পুলিশ সেখানে পায় হামলাকারী ফয়জুর রহমানের মামা ফজলুর রহমানকে, যিনি নিজেকে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ন অাহবায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি প্রথম আলো পত্রিকা একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে ছেপেছিল। প্রথম আলো লিখেছিল, “ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর রহমানের শেখপাড়ার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সেখান থেকে তাঁর মামা সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহবায়ক ফজলুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া একটি ল্যাপটপও জব্দ করা হয়েছে বলে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান প্রথম আলোকে জানান।

ওসি শফিকুর রহমান জানান, শনিবার রাত ১২টা নাগাদ শাবিপ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ওই বাসাটিতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সে সময় বাসাটি বাইরে থেকে তালা লাগানো থাকায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তালাবদ্ধ বাসার ভেতরে ফয়জুরের মামা ফজলুর রহমান অবস্থান করছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাত সোয়া ১ টার দিকে থানায় নিয়ে আসা হয়।”[১] আশ্চর্যজনকভাবে কয়েকঘণ্টা পরে প্রথম আলো এই খবর এবং খবরের শিরোনাম আমূল বদলে হামলাকারীর মামার রাজনৈতিক পরিচয় গায়েব করে দেয়।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কে এই ফজলুর রহমান? তার খুঁটির জোর কোথায়? কোন ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বিডিনিউজ২৪, ইত্যাদি বড় বড় ক্ষমতাবান আওয়ামীপন্থী মিডিয়া থেকে নিজের পরিচয় মুছে দিতে পারলেন?

এই ক্ষমতার উৎস জানতে হলে বাংলা ট্রিবিউনে ছাপা কিছু ছবি খেয়াল করতে হবে। (বাংলা ট্রিবিউনের লিংক)

দেখা যাচ্ছে- ফজলুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন! তিনি ফজলুর রহমানকে গলায় মালা পরিয়ে দিচ্ছেন। [উপরের যুক্ত করা ছবি] আবার এই ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন সাহেব সজিব ওয়াজেদ জয়ের বেশ ঘনিষ্টজন [উপরের যুক্ত করা ছবি]। ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন সাহেব ফজলুর রহমানের সাথে সেলফিও তুলেছেন [নিচের ছবি]। আরো কয়েকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে- ফজলুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের ছবি ও নিজের পদবী ব্যবহার করে পোস্টারও সাটিয়েছেন।

সুতরাং এটা অস্বীকারের কোন উপায় নেই যে, হামলাকারী ফয়জুর রহমানের মামা ফজলুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতা এবং তার গ্রুপ লিডার ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের বদৌলতে সরাসরি সজিব ওয়াজেদ জয়ের সাথে সংযুক্ত। আশা করি বোঝা যাচ্ছে- কোন ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি মিডিয়া থেকে নিজের নাম পরিচয় মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।

এবার হয়তো প্রশ্ন আসবে- হামলাকারী ফয়জুর রহমানের অপরাধের জন্য তার মামা ফজলুর রহমানকে নিয়ে কেন টানাটানি করা হচ্ছে?

আসলেই, একজনের দোষে আরেকজনকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া করার পক্ষপাতি আমি না। তাই হলি আর্টিজান হামলায় অংশ নেয়া জঙ্গী রোহানের বাবা যখন আওয়ামী লীগের নেতা বলে জানা গেল, সেটা নিয়েও কোন প্রশ্ন তুলিনি। কিন্তু এখানে তো প্রশ্ন না তুলে পারা যাচ্ছে না!

প্রশ্ন হচ্ছে- ফয়জুর রহমানের তালাবদ্ধ বাসার ভেতরে বসে তার মামা এবং আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুর রহমান কি করছিলেন?

বি.দ্র: এই পোস্ট লেখার প্রয়োজন হতো না, যদি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক তাদের দলীয় নেতার আত্মীয়ের মাধ্যমে ঘটা হামলার জন্য বিএনপি’কে দোষী করে বক্তব্য দিয়ে এই হামলাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা না করতেন।

লেখকের ফেসবুক থেকে

Facebook Comments

comments