বিএনপির জোটে জামায়াতকে দেখতে চায় না ভারত

খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। কিন্তু ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের পথে অন্তরায় হয়ে উঠেছে জামায়াত ইসলামী। বিএনপির জোটে দলটিকে দেখতে চায় না ভারত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টিও।

বিএনপি মনে করছে, ভারতকে আস্থায় আনতে গিয়ে যদি জামায়াত ইসলামীকে জোট থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনে ভরাডুবি হতে পারে। আবার ভারতের আস্থা না পেলেও লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে।

এসব নিয়ে দোটানায় পড়েছে সংসদের বাইরে থাকা সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলটি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ভাবছেন, ভারত কি আদৌ আওয়ামী লীগকে ‘মাইনাস’ করে বিএনপির সাথে সম্পর্ক গড়তে চাইবে? নাকি বিএনপিকে ফের চীনের দিকে অগ্রসর হতে হবে?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা একান্ত আলাপকালে প্রিয়.কমকে এসব কথা বলেছেন।

নেতাদের ভাষ্য, বিএনপিকে যে কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত অপছন্দ করে বা বিশ্বাসের খাতায় নিতে পারছে না, তার মূল কারণ হচ্ছে বিএনপির সাথে জামায়াতের সখ্যতা ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে কৌশলে জামায়াতকে কাছে টানতে গিয়ে এখন বিএনপির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ভোটের রাজনীতি বিবেচনায় বিএনপি এখন না পারছে জামায়াত ইসলামীকে ছেড়ে দিতে, না পারছে একসঙ্গে কাজ করতে।

দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, ভারত ইস্যুতে বিএনপিতে মূলত দুটি বাধা। প্রথমটি হচ্ছে–সঙ্গে থাকা জামায়াত ইসলামী, দ্বিতীয়ত তারেক রহমানের নেতৃত্ব। দলটিকে যদি লক্ষ্যে পৌছাতে হয় সেক্ষেত্রে জোটে থাকা জামায়াত ইসলামীকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও দিন দিন দলের ভেতর ও বাইরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

একজন নেতা বলেন, ‘জামায়াতকে বাদ দিলে ভারতের সঙ্গে তারেক রহমান ইস্যুতে দর কষাকষি করা যাবে। ফলে তারেক ইস্যু বড় নাও হয়ে উঠতে পারে।’

ওই নেতা আরও বলেন, ‘জামায়াত ও তারেক ইস্যু ছাড়াও ২০ দলীয় জোটে থাকা অন্য দলগুলোর অবস্থাও ভাবতে হচ্ছে। ৬–৭টি দল আগেরবার জোট ছেড়ে নির্বাচনে যায়নি। কিন্তু এবার হয়তো সুযোগ হাতছাড়া না–ও করতে পারে। এমন–কি বিএনপি যাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে, দুর্নাম কামিয়েছে, ঝুঁকি নিয়েছে সেই জামায়াত ইসলামীকেও দেখা যেতে পারে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যেমনটি দিয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির যে সম্পর্ক সেটা ভোটের রাজনীতিতে ঐক্যবদ্ধ জোট। এর বাইরে কিছু নয়। বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক আর্দশও ভিন্ন। ফলে বিএনপিকে জামায়াত ইসলামীর সাথে তুলনা করা অর্থহীন। তাছাড়া জামায়াত ইসলামীকে যেখানে সরকার তাদের নিবন্ধন বাতিল করে রেখেছে, সেখানে তো জামায়াত নিয়ে বিএনপির এত দুশ্চিন্তার কারণ থাকতে পারে না।’

বিএনপির তৃণমূলের কয়েকজন নেতা জানান, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও নগর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব অগোছালো অবস্থায় রয়েছে। বিগত দিনের আন্দোলনে এর প্রকাশ ঘটেছে। সেখানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস যদি কোনো কারণে দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অগোছালো সংগঠন দিয়ে বিএনপি কতটুকু ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে? এমন সন্দেহও ব্যক্ত করেন নেতারা।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াত ইসলামী বিএনপির অগ্রসর হওয়ার পথে অন্তরায় নয়। বিএনপির এখন মূল টার্গেট হচ্ছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কীভাবে দ্রুত সময়ে কারামুক্ত করা যায়। সেক্ষেত্রে শুধু জামায়াতই নয়, আমাদের চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে রাজ‌নৈ‌তিক দল বা যারাই অংশ নেবেন তারাই এই মুহূর্তে বিএনপির আপনজন।’

সূত্র: প্রিয় ডটকম

Facebook Comments

comments