বিএনপিকে ফাঁদে ফেলতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সরকার!

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চায় বিএনপি। সরকারের কোনো রকম ‘উসকানিতে’ পা না দিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে যে ধরনের কর্মসূচি নেয়া দরকার তা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। ফলে এখনই কোনো ধরনের কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। আগামী সপ্তাহে সমাবেশের জন্য নতুন করে দলের পক্ষ থেকে অনুমতি চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিএনপিকে পর পর দুবারের মত সোহরাওয়ার্দিতে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি ডিএমপি। জানা যায়, সরকারের ইঙ্গিতেই বিএনপিকে অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। এজন্য কথিত গোয়েন্দা তথ্যের কথা বলে বার বার বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি থেকে বঞ্চিত করছে পুলিশ। এতে করে সরকার চাইছে বিএনপিকে উত্তেজিত করতে। যাতে করে তারা কঠোর কোনো কর্মসূচী ঘোষণা করে এবং জ্বালাও পোড়াও করে। যার মাধ্যমে ফায়দা লুটতে পারবে সরকার। কিন্তু বিএনপিকে এমন ফাঁদে ফেলতে বার বারই ব্যর্থ হচ্ছে সরকার।

বিএনপি একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের চেয়ারপারসন কিংবা আগামী নির্বাচনকে সামনে নিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে এখনই কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাদের।

তারা বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য চেষ্টার চালিয়ে যাবেন তারা। উপযুক্ত সময়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকাররে রূপরেখা দিয়ে মাঠে নামবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দলটি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি এখন পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন, প্রতীকী অনশন, কালো পতাকা প্রদর্শনের মতো ‘নিরীহ’ কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই নিয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ভিন্ন সময় বলা হয়েছে, বিএনপির আন্দোলন করার মত ক্ষমতা নেই। তবে বিএনপি নেতাদেরে দাবি, এসব বলে বিএনপিকে উসকানি দিচ্ছে সরকার।

বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা ঢাকাতে সমাবেশের অনুমতি চাইতেই থাকব। আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে থাকতে চাই। এজন্য ১৭ বা ১৮ মার্চ নতুন করে সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চাওয়া হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে জানানো হবে।’

নতুন কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রোববার রাতে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এখন কিছু বলা যাবে না। আগামীকাল (সোমবার) সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হবে। সেখানে বিস্তারিত জানাব।’

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা এখনো সমাবেশের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। অনুমতি না পেলে দলের মহাসচিবের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি জানিয়ে দেয়া হবে।’

আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা উপযুক্ত সময়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করব।’

এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিতে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত আছে। সময়মতোই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের কোনো ধরনের উসকানিতে পা দিতে চাই না। যথাসময়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা দিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি।’

এদিকে সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপিকে সোমবার সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি। রোববার রাতে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, ‘জননিরাপত্তার জন্য অনুকূল নয় বিধায়’ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ঘোষণা করেছিল বিএনপি। সমাবেশের অনুমতি না পাওয়া প্রসঙ্গে সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই আদালত বিএনপি প্রধানের ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামির ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

ওইদিন থেকেই বিএনপি প্রধান পুরানো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

তথ্যসূত্র: পরিবর্তন

Facebook Comments

comments