বলিউড অভিনেত্রীর রোহিঙ্গাবিদ্বেষী টুইট ও শাবানা আজমির জবাব

“মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা যখন রোহিঙ্গাদেরকে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য ছুঁড়ে ফেলছে, তখন জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী (মমতা ব্যানার্জি) তাদেরকে জায়গা দিচ্ছেন, বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দিচ্ছেন।”

এটি হচ্ছে বলিউড অভিনেত্রী কোয়েনা মিত্রের টুইট। শেষাংশে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের টুইটার একাউন্টকে মেনশন করে প্রশ্ন করেছেন, ‘আপনারা কখন পশ্চিমবঙ্গের সহায়তায় এগিয়ে আসবেন?’

রোহিঙ্গাদের প্রতি চরম বিদ্বেষমূলক এই টুইটের পর শুক্রবার রাত থেকে এর পক্ষে-বিপক্ষে বেশ আলোচনা চলছে মাইক্রো ব্লগিং সাইটটিতে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী আদর্শের দল বিজেপির অনেক নেতাকর্মী কোয়েনাকে সমর্থন করছেন।

আবার অনেকে সমালোচনা করছেন কোয়েনার। বলিউডের আরেক কিংবদন্তীতুল্য অভিনেত্রী শাবানা আজমি কোয়েনার টুইটের পাল্টা টুইট করেছেন। ‘রোহিঙ্গা মাত্রই সন্ত্রাসী’ এমন মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি লিখেন, ‘কোয়না মিত্র, রাখাইনে সেনাদের অভিযানের ফলে অর্ধ মিলিয়ন রোহিঙ্গার দেশছাড়া হওয়ার ঘটনাকে জাতিসংঘ জাতিগত নিধনের ‘টেক্সটবুক এক্সাম্পল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সবাই কি সন্ত্রাসী? আবার দেখো, চিন্তা করো।’

শাবানা আজমি তার টুইটে পলায়নপর ও আতঙ্কগ্রস্ত রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের একটি ছবি যোগ করেছেন।

এর জবাবে শনিবার কোয়েনা মিত্র আরেক টুইটে লিখেছেন, “শাবানা আজমি, কেউই ভারতের সঙ্কট নিয়ে চিন্তা করে না, এটাই সমস্যা। পশ্চিমবঙ্গসহ আরও অনেকে রাজ্য ভুক্তভোগী হচ্ছে। আমরা নিজেরা ভুক্তভোগী হচ্ছি। আমাদের প্রথমে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে। অতীতে দুর্গা পূজা বিসর্জন বন্ধ করে দেয়া হয়, আজ রামনাভামী পূজা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।…”

টুইটটি এখানেই শেষ হয়নি। পরবর্তী আরেকটি পোস্ট করে কোয়েনা লেখেন, “প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন বহিরাগতদেরকে আমাদের দেশে বসবাসের সুযোগ দেব। আমরা দুইজনই (কোয়েনা ও শাবানা আজমি) মহারাষ্ট্রে বসবাস করি, তাই আমাদের পক্ষে সঙ্কটটা বুঝা কঠিন। আমার ঘনিষ্ঠজনরা পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, এ কারণে আমি এ বিষয়ে মিডিয়ার চেয়ে বেশি জানি। বহিরাগতরা মোটেই শান্তিকামী নয়।”

এরপর শাবানা আজমি নিচের ছবিগুলো টুইট করে লিখেন, “কোয়েনা মিত্র, আবারও দেখো। এই বৃদ্ধ নারী ও শিশুদেরকে দেখতে সন্ত্রাসী বলে মনে হয় তোমার কাছে?”

এর জবাবে কোয়েনা মিত্র লিখেন, “সব সন্ত্রাসীদেরই বাবা-মা থাকে। এবং আমি নিশ্চিত তারা অবশ্যই বয়স্ক ও ভাল মানুষ। সবাই খারাপ না, কিন্তু যখন আমাদের দেশ বহিরাগতদের কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছে তখন আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে বয়কট করতে হবে। বিষয়টা খুবই সোজা। আমি অন্ধভাবেই বিশ্বাস করি যে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম।’

উল্লেখ্য, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে কয়েকটি সবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সে দেশে বর্তমানে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। তাদের অনেকে পশ্চিমবঙ্গে বসতি স্থাপন করছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতারা মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তিনি রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দিচ্ছেন।

মিয়ানমার থেকে সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ সরকার আশ্রয় দিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের পর থেকেই শুধু সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।

শুধু শাবানা আজমি নন, আরও অনেকে কোয়েনার বক্তব্যের সমালোচনা করছেন।

সূত্র: যমুনা টিভি অনলাইন

Facebook Comments

comments