প্রধানমন্ত্রীর ভাশুরপুত্রদের পিটিয়ে আহত!

??????????????????????????????????????????????????????????

রংপুরের পীরগঞ্জে কুদ্দুছ হত্যা মামলায় লাশের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে মৃত্যুর সঠিক কারণ না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মামলাটির বাদী রাজুসহ তার লোকজন। রোববার বাড়ি ঘেরাও করে প্রধানমন্ত্রীর ভাশুরপুত্রদের পিটিয়ে আহত করেছে রাজুর লোকজন।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ফতেপুরের প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ‘জয়সদন’ সংলগ্ন আবদুস সামাদ মিয়ার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে গত শনিবার বিকালেও ওই বাদীর নেতৃত্বে মামলাটির এক আসামিকে মারপিট করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুরের রাজু মিয়া তার বাবা আবদুল কুদ্দুছকে (কানড়া) হত্যার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাশুর আবদুস সামাদ মিয়ার ছেলে, মেয়ে, নাতি এবং কাজের ছেলেকে আসামি করে একটি মামলা করে। মামলাটি সিআইডিতে রয়েছে।

শনিবার বিকালে রাজু মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন মামলার ৪নং আসামি পীরগঞ্জের সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শামছুজ্জোহা স্বাধীন মিয়াকে মকিমপুর শাহাপাড়ায় বেদম মারপিট করে। পুলিশ তাকে উদ্ধারের পর পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এরপর রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবারও রাজু, তার আপন ভাই মামুন, সুজনসহ ৫-৬ জন লাঠি, ধারালো অস্ত্র নিয়ে ‘জয় সদন’ সংলগ্ন আবদুস সামাদ মিয়ার বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ভাশুরপুত্র হাসান মিয়া ও নুরুল ইসলাম বাঁধা দিতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের এলোপাতাড়ি মারপিট ও কোপাতে থাকে।

এদিকে মারধরের খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা সটকে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। হাসান মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাদীর ভয়ে আসামিদের স্ত্রীরাও বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

বৃদ্ধ সামাদ মিয়া জানান, আমার ছেলে, মেয়ে, নাতি কেউ বাড়িতে ছিল না। তারপরও ওরা (বাদী) প্রায় প্রায়ই হামলা করে।

পীরগঞ্জ থানা ওসি রেজাউল করিম জানান, সিআইডিতে থাকা হত্যা মামলাটির বাদী আসামি ও তার চাচাতো ভাইদের মারপিট করেছে। মারপিটের ঘটনার তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বাজিতপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুছের (কানড়া) মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। এর চার দিন পর নিহতের ছেলে রাজু বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাশুর সামাদ মিয়ার চার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ, নাতি এবং বাড়ির কাজের ছেলেকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করে। মামলাটি নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হলে সিআইডি তদন্ত করছে। লাশের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্টে মৃত্যুর সঠিক কারণ পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

সূত্র: যুগান্তর

Facebook Comments

comments