ট্রাম্পের উপদেষ্টা যখন ঢাকায় তখনই এমন হামলা নিয়ে সন্দেহ!

আহরাম বিডি

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ছুরি নিয়ে হামলা হয়েছে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর। শনিবার বিকালে এই হামলার পরপরই হামলাকারী তরুণকে ধরে ফেলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, তার উপর ছুরি নিয়ে হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন জাফর ইকবাল। তার মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মোট ২৬টি শেলাই করা হয়েছে।

এমন সময় তার উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা লিসা কার্টিস তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।

অনেকে এই হামলাকে জঙ্গি হামলা হিসেবে অভিহিত করছেন। বাংলাদেশে বেশ কয়েকদিন ধরে নিয়মিত কথিত জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও কয়েক মাস ধরে এ ধরণের হামলার ঘটনা বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ করেই ট্রাম্পের উপদেষ্টার উপস্থিতিতে এমন হামলায় অনেক সন্দেহের তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের মানুষের কাছে এসব কথিত জঙ্গি হামলার ঘটনাগুলো নিয়ে আগেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করেন সরকার পশ্চিমা বিশ্বকে হাতে রাখতে এসব জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটায়। আন্তর্জাতিকভাবে যারা আমাদের দেশের ঘটনায় নজর রাখে যেমন “ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ”, তারাও এসব ঘটনার জন্য সরকারকে সন্দেহের বাইরে রাখে নাই। গত ফেব্রুয়ারির রিপোর্টেও তা উল্লেখ আছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে বার বার তাগাদা দিয়ে আসছিলো যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকল সহযোগীতার কথাও বলেছে তারা। নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এসব বক্তব্যের নেতিবাচক জবাবও দিয়েছে সরকারের মন্ত্রী। এমন অবস্থায়ই ট্রাম্পের উপদেষ্টা ঢাকা সফরে আসলেন।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনাটিকে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চক্রান্ত’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

আজকের ঘটনা পরিক্রমা নিয়ে অনেকের মনেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তজার ফেসবুক স্টেটাসে অনেকটাই উঠে এসেছে। স্ট্যাটাসটি আহরাম বিডির পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“হামলাকারী মরার মত পড়ে আছে। কোনো কথারই জবাব দিচ্ছে না।
-জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম

‘…পুলিশই ওই হামলাকারী যুবককে ধরে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে দেয়।’
-সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার

‘… আচমকা এক যুবক মঞ্চের পেছন থেকে এসে জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত করে। পুলিশ তাঁর পাশেই ছিল, কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি।’
-প্রথম আলোর প্রতিবেদন

ওসি এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার কথাগুলো প্রথম আলোকে বলেছেন। পিটুনি খাওয়া হামলাকারীকে প্রশ্ন করবেন, আর সে সব বলে দেবে? ওসি তাই মনে করছেন? এত গুরুতর আসামীকে এভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়, এবং তা গণমাধ্যমকে বলতে হয়?

পুলিশ কেন হামলারারীকে ধরে ‘প্রক্টোরিয়াল বডি’র কাছে দিল? জাফর ইকবালকে তো বাঁচাতেই হবে। হামলাকারীকে বাঁচানোও তো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। পুলিশেরই তো একথা সবচেয়ে ভালো জানা- বোঝার কথা। ‘মরার মত’ পড়ে থাকা হামলারারীকে হেফাজতে না নিয়ে, প্রক্টরিয়াল বডির কাছে দেয়ার তাৎপর্য কি?

‘বর্তমানে ওই যুবককে ক্যাম্পাসে শিক্ষাভবন-এ এর ভেতর রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সেখানে একজন চিকিৎসক গিয়েছেন।’

এখনও কেন হামলাকারীকে এমন অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে?

পুরো ঘটনায় পুলিশ তথা রাষ্ট্রীয় পেশারিত্বের বিষয়টি খোঁজার চেষ্টা করছি।”

Facebook Comments

comments