বিএনপির আন্দোলনে তেজ পেতে দরকার জামায়াতকে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে বিএনপির কর্মীরা। তবে বিএনপির কর্মীদের বিক্ষোভে এবার তেমন তেজ নেই মন্তব্য করে সংবাদ প্রকাশ করেছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। এর কারণ হিসেবে পত্রিকাটি বলেছে, বিএনপির এবারের আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াত ও তাদের অঙ্গসংগঠন শিবিরের নেতাকর্মীরা মাঠে নেই। ফলে বিএনপির সরকার ফেলার আন্দোলনের হুমকিও মাঠে মারা গিয়েছে। খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের ঘটনা থেকে বস্তুত দূরত্ব বজায় রাখছে জামায়াত। এমনকি রায়ের পর এখনো পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জামায়াত কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। (যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে)

এদিকে দুর্নীতির দায়ে ২৮ বছর আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে জেলে যেতে হয়েছিল খালেদা জিয়ার আমলে। ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে সেই পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার এখন বন্দিশূন্য। শহরের বাইরে কেরানিগঞ্জে আধুনিক সংশোধনাগার গড়ে হাজার দুয়েক বন্দিকে সেখানে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে কারা কর্তৃপক্ষের কিছু প্রশাসনিক কাজ চলে। নিঝুম এই পুরনো কারাগারেই বৃহস্পতিবার রাখা হয় কারাদণ্ড পাওয়া খালেদা জিয়াকে।

এরশাদের দল জাতীয় পার্টি এই ঘটনাকে ‘ইতিহাসের প্রতিশোধ’ হিসেবে দেখছে। দলের সাংসদ ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, ‘এরশাদ জেলে একটি কুলগাছ লাগিয়েছিলেন। এত দিনে তাতে নিশ্চয়ই কুল হচ্ছে। জেল কর্তৃপক্ষকে বলব, কারাবিধানে আপত্তি না থাকলে সেই কুল যেন তারা খালেদাকে খেতে দেন!’

বৃহস্পতিবার রায়ের পরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের যে ঘরে, সেটি আগে জেল সুপারের অফিস ছিল। বিএনপি নেত্রীর জন্য সেই কক্ষে এসি বসানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীর আবেদনে তার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফতেমাকেও সঙ্গে থাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে(যদিও এখন পর্যন্ত ফাতেমাকে সাথে দেয়া হয়নি)। তবে কয়েক দিনের মধ্যে খালেদা জিয়াকে মহিলা ওয়ার্ডের শিশুদের ডে-কেয়ার সেন্টারের দুটি বড় ঘরে স্থানান্তর করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাতেই আইনজীবীরা জেলে গিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিনের আবেদনে খালেদার সই নিয়ে গিয়েছেন। রায়ের প্রত্যয়িত কপি হাতে পাওয়ার পরে হাইকোর্টে এই আবেদন করা হবে। তবে আপিল গৃহীত হলে খালেদার ভোটে দাঁড়াতে কোনও সমস্যা হবে না বলেই আইনজীবীদের অভিমত।

আইনমন্ত্রী বিশিষ্ট আইনজীবী আনিসুল হক বলেন, ‘সাধারণভাবে আপিল গৃহীত হলে ভোটে লড়তে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে বিষয়টি উচ্চ আদালত ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে।’ প্রাক্তন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গিয়ে যদি কারাদণ্ড বহাল থাকে, তবেই তিনি সাজা খাটার পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত ভোটে লড়তে পারবেন না। এটাই আইন।’ তিনি জানান, আপিল গৃহীত হওয়ার অর্থ সাজার বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। রায়ের আগে খালেদা জিয়া বারবার বলে এসেছেন, ‘আমাকে ভোটে লড়তে না-দেওয়ার জন্যই সরকার সাজানো মামলায় জেলে পাঠানোর তোড়জোড় করছে।’ এর ফলেই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here