পিলখানা হত্যা: সেনাবাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে ক্ষুব্ধ হন শেখ হাসিনা!

২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর এ ঘটনায় গঠিত সেনাবাহিনীর একটি তদন্ত কমিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের এ প্রস্তাবে বিরক্ত হন প্রধানমন্ত্রী এবং তা নাকচ করে দেন।

তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির সঙ্গে এক বৈঠকে শেখ হাসিনা এ কথা জানান। ওই বছরের ২৭ এপ্রিল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন গোপন তারবার্তা থেকে এ কথা জানা গেছে।

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তাসহ ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি। এ ঘটনা তদন্তে ২ মার্চ লে. জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সেনাবাহিনী। সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির পাশাপাশি পৃথকভাবে কাজ করে এ কমিটি।

হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর ওয়াশিংটনে পাঠানো মার্কিন রাষ্ট্রদূত মরিয়ার্টির গোপন তারবার্তায় বলা হয়, ‘সেনাবাহিনী পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করায় বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন শেখ হাসিনা। প্রথম দিকে এ কমিটির কার্যপরিধি বিদ্রোহের সময় খোয়া যাওয়া সেনাবাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব-নিকাশসংক্রান্ত সামরিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।’

তারবার্তায় মরিয়ার্টি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে সেনাবাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ায় তিনি (শেখ হাসিনা) স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ হন। জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, এ ধরনের জিজ্ঞাসাদের অধিকার কেবল পুলিশের আছে।’

মরিয়ার্টির সঙ্গে ওই বৈঠকে শেখ হাসিনা আরও জানান, বিদ্রোহের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত বলে বিবৃতি দেওয়ার জন্য আটক বিডিআর সদস্যদের ওপর চাপ দিচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন।

সূত্র: প্রথম আলো (তারিখ: ০৯-০৯-২০১১)

Facebook Comments

comments