গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘ভ্রাম্যমান’ কৌশল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন কোনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এখন নিজেদের বাসায় অবস্থান করতে পারছেন না। অনেকটা ভ্রাম্যমাণ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। পুলিশও বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাসায় তল্লাশি করে বিফল হয়ে ফেরত এসেছে। বিএনপি’র নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। পুলিশ ধারণা করছে, রায়ে এই মামলার অন্যতম আসামি খালেদা জিয়ার সাজার আশঙ্কায় বড় জমায়েতের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এই জমায়েত ঠেকাতে পুলিশ আগে থেকেই তল্লাশি-অভিযান শুরু করেছে। একইসঙ্গে গত মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া পৃথক তিন মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কেউ যেন ফৌজদারি অপরাধ করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি ‘প্রিভেন্টিভ মেজার’-এর অংশ হিসেবে পুলিশ কাজ করছে।’’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবারের ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগে পৃথক দুই মামলা ও রমনা থানায় অপর একটি মামলায় প্রায় আড়াইশ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় রাজধানীর বিভিন্ন থানার নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে। নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে তিনটি মামলাতেই। এ কারণে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সবাই গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন।

বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে তারা নিজেদের বাসা-বাড়িতে কেউ অবস্থান করছেন না। এমনকি ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টেও যাতায়াত করছেন অনেকে শীর্ষ নেতাকর্মী। মোবাইল ট্র্যাকিং করে অবস্থান জেনে যেতে পারে— এ ভয়ে মোবাইল ফোনেও কথা বলছেন না অনেকেই। ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে যোগাযোগ করছেন তারা। তবে ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে এখনও নির্দেশনা পাননি কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার প্রিজন ভ্যানে হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের দুই ছেলেসহ গত তিন দিনে আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজনের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বিএনপির উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ কারণে বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরাও এক ধরনের পলাতক জীবন শুরু করেছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা যেন কোনোভাবেই মাঠে নামতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সার্বিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দফতরেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলা, বিশেষ করে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপারদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তারাও গ্রেফতার আতঙ্কের কারণে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার পার্শ্ববর্তী এক জেলার পুলিশ সুপার বলেন, ‘আমরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নজরদারি করছি যেন তারা কেউ ৮ ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here