খালেদার সঙ্গে কারাগারে গিয়ে নজির গড়লো ফাতেমা

এক/এগারো’র সেনাসমর্থিত সরকারের সময় থেকে বদলে গেছে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন। দুই সন্তানের মধ্যে এক সন্তানকে চিরতরে হারিয়েছেন। আরেকজন নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে বিদেশে চিকিৎসাধীন। আপন দুই ভাই-বোনও এরই মধ্যে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা হয় কালেভদ্রে। একাকিত্ব যেন তার জীবনে অংশ হয়ে গেছে। সর্বশেষ একমাত্র বন্দি হিসেবে তিনি সাজা খাটছেন নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে।

বার্ধক্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে অসুস্থতা। দীর্ঘদিন ধরে সেভাবে একা চলতে-ফিরতে পারেন না খালেদা জিয়া। নিজের নাওয়া-খাওয়া, চলাফেরা, ওষুধ-পানি বা যে কোনো সামান্য দরকারে যে নারীটি বিএনপি চেয়ারপারসনের ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছেন, তিনি হলেন ফাতেমা। বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দি জীবনেরও একমাত্র সঙ্গী হয়ে নজির স্থাপন করলেন তিনি।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘যেহেতু বেগম জিয়া একজন বয়স্ক মহিলা, তাই আমরা আদালতে একটা দরখাস্ত করি। উনি শারীরিকভাবেও সুস্থ নন। যে কারণে তিনি তার দীর্ঘদিনের সেবিকা ফাতেমাকে ওষুধ-পথ্য খেতে সহযোগিতার জন্য পাশে চেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি ফাতেমাকে বেগম জিয়ার সেবিকা হিসেবে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা সেদিন জেলে গিয়ে দেখি ফাতেমাকে দেয়া হয়নি। অন্য কোনো সেবিকাও নেই। তাই আবার আদালতে দরখাস্ত করি, আদালত সেটি অনুমোদন দিয়েছে।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘যেহেতু আদালত ফাতেমাকে রাখার অনুমতি দিয়েছে আর ফাতেমা যদি জেলে ম্যাডামের সঙ্গে থাকেন, তাহলে সেক্ষেত্রে এটাই হবে প্রথম নজির।’

তিনি বলেন, ‘তাছাড়া কোথাও এভাবে কোনো প্রধানমন্ত্রীকে জেলে রাখা হয় না। এটাও একটা প্রথম নজির হিসেবে বিবেচিত হবে। আমি কিন্তু এখনো নিশ্চিত নই যে ফাতেমাকে বেগম জিয়ার সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়েছে কিনা।’

মূলত ১/১১’র সময় থেকেই ফাতেমা নিজের মায়ের মতো করে একরকম ছায়া হয়ে আছেন খালেদা জিয়ার। বেগম জিয়ার সেবা করা ছাড়া তার তেমন কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।

খালেদা জিয়ার প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান বলেন, ‘ম্যাডামের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সব কিছুই ফাতেমা সেবিকা হিসেবে করে দেন।’

যোগাযোগ করলে সাবেক ডিআইজি প্রিজনস মেজর (অব.) শামসুল হায়দার চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ফাতেমার বিষয়টা কোর্ট যেটা অনুমোদন দিয়েছে, সেটা বাংলাদেশে একটা নতুন ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘কারাগারে বাইরের কোনো লোক দেয়া হয় না। যারা ডিভিশন পাওয়া বন্দি, তাদের কাজকর্মের জন্য বন্দিদের ভেতর থেকেই একজনকে নিয়োগ করার কথা সেবক বা সেবিকা হিসেবে।’

সাবেক এই ডিআইজি প্রিজনস বলেন, ‘ফাতেমার বিষয়টি প্রথম ব্যতিক্রম বাংলাদেশে। যেহেতু কোর্ট দিয়েছে, তখন আর কোনো কথা নেই।’

সূত্র: পরিবর্তন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here