‘খালেদাকে তিনদিন মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছিল‘

নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সবার নজর এখন খালেদা জিয়ার দিকে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রথমে ডিভিশন দেয়া হয়নি। তাকে তিনদিন মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছিল।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ টাকার অভিযোগকে সরকার আরও বড় করে তুলে ধরেছে বলে মনে করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে এই মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ায় তার প্রতি জনগণের সহানুভূতি বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের টক শো ‘আজকের বাংলাদেশে’ অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, আমি যদি ধরে নেই এই দুই কোটি ১০ লাখ টাকার দুর্নীতি হয়েছে সে তুলনায় বিষয়টাকে আরো বেশি বড়ভাবে সরকার উপস্থাপন করছেন। এই বছরটা নির্বাচনের বছর। যাকে সাজা দেয়া হয়েছে তিনি একটা দলের চেয়ারপারসন। তিনি তিন বার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। রাজনীতির অঙ্গনে তিনি একটা বড় দলের প্রতিনিধি।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবার বিএনপি জিতবে বলে মনে করেন তৃতীয় শক্তি হিসেবে গড়ে উঠার চেষ্টায় নতুন জোট করা মান্না।

খালেদা মুহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় টক শোতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি সরকারের আমলের যোগাযোগ মন্ত্রী ও বর্তমান বিএনএ চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা নাজমুল হুদা বর্তমানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। খালেদা জিয়ার কট্টর সমালোচক হয়ে উঠা নাজমুল হুদা ইদানিং ক্ষমতাসীন ১৪ দলের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখছেন।

খালেদা জিয়ার দণ্ডের রায়ে বিএনপি নেত্রীর প্রতি জনগণের সমবেদনা বেড়েছে বলে মনে করেন নাজমুল হুদা। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রায় জনগণ গ্রহণ করেনি বলেও মনে করেন তিনি।

টক শোতে মান্না বলেন, সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। এখন যদি একটা ফেয়ার ইলেকশন হয় তবে ব্যারোমিটারটা ধানের শীষের পক্ষে বেশি যাবে।

অবশ্য এই নির্বাচনে মান্না ও আরও তিন দলের উদ্যোগে গড়ে তোলা যুক্তফ্রন্টের ভবিষ্যৎ কী, সে বিষয়ে কিছু বলেননি মান্না।

দেশের দুই প্রধান দলের প্রতি জনগণের আস্থা নেই দাবি করে গত ৪ ডিসেম্বর মান্নার নাগরিক ঐক্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা, আবদুল কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং আ স ম আবদুর রবের জেএসডি নিয়ে গঠন করা হয় নাগরিক ঐক্য।

মান্না তখন বলেন, দুই জোটের বিপরীতে নতুন একটা রাজনীতিক জোট গড়ার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল আমাদের। সাধারণ মানুষও সেটা চাইছে। আমরা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে পথ চলা শুরু করেছি। আমরা মানুষের কাছে যাব। আশা করছি দুই রাজনৈতিক জোটের বাইরে বৃহৎ শক্তি নিয়ে আমরা রাজনীতিতে আবির্ভূত হতে পারব।

টক শোতে মান্না বলেন, সবার নজর এখন খালেদা জিয়ার দিকে। তিনি এখন বেশি কভারেজ পাচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রথমে ডিভিশন দেয়া হয়নি। তাকে তিনদিন মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছিল।

‘এই ব্যাপারটাতে সবাই এখন খালেদা জিয়ার পক্ষে রয়েছে। তার প্রতি সিমপ্যাথি কাজ করছে। কারণ একজন নির্যাতিত মানুষ একজন কারাবন্দি মানুষের প্রতি মানুষের সিমপ্যাথি এমনিতেই যায়।’

তৃতীয় শক্তি হওয়ার স্বপ্নে গড়া যুক্তফ্রন্ট নেতা বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে পারেনি। এবার তারা অংশ নিতে চায়। তারা বিষয়টা স্পষ্ট করে বলছে যে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে। খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘যতই চেষ্টা করেন আমাকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতে পারবেন না।’ কিন্তু কথা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার এই দণ্ডের কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি পারবেন না। কারণ সরকারই বিষয়টাকে ঘোলা করেছে।

‘আমরা চাই একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। খালেদা জিয়ার এই কারাভোগের ফলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আরো জটিলতা তৈরি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

এই রায়ে আস্থা কমেছে: নাজমুল হুদা

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির কট্টর সমালোচক হয়ে উঠা নাজমুল হুদাও টকশোতে বলেন, এই রায়ের পর আইন-আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে।

‘কারণ এটা একটা ক্যাঙ্গারু কোর্ট। তারা সরকারের তল্পিবাহক। আমি নিজে সেটার সাক্ষী। এটার মধ্যে কোনো রকমের ভুল নেই।’

‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় বিএনপিকে বিরাট বড় একটা প্লাস পয়েন্ট দিয়েছে এবং বেগম জিয়াও আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। এখন দেখার বিষয় এটাকে এখন বিএনপি কতটা ক্যাপিটালাইজড করতে পারবে। এবং গভমেন্ট সেটাকে কতটা কনটেন্ট করতে পারবে এবং এটাই হচ্ছে ভবিষ্যৎতের রাজনীতির দেখার বিষয়।’

তবে কোন যুক্তিতে খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে, সেটি না জানার কথা বলেন নাজমুল হুদা। বলেন, কোর্ট কোন তথ্য, উপাত্তের ভিত্তিতে কতটুকু জেরা আমলে নিয়ে, ডিফেন্স কেসকে ডিসকাস করে এই জাজমেন্ট দেয়া হয়েছে এটা আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পারিনি। মূল জাজমেন্টটা যেহেতু প্রকাশ হয়নি তাই আমরা এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারছি না। এখন দেখার বিষয় উচ্চ আদালতে এই মামলায় কী রায় দেয়া হয়।

বিশেষ আদালত ‘সরকারের প্রভাবে’ বিচার হয়েছে বলে অনেকের সংশয় আছে জানিয়ে নাজমুল হুদা বলেন, আশা করছি উচ্চ আদালতে সেটা হবে না।

সূত্র: পূর্বপশ্চিম বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here