আ.লীগই ভারতপন্থী, বাকীরা পাকিস্তানপন্থী: ভারতকে কাদের

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা আওয়ামী লীগের বিকল্প বলে বিবেচিত হতে পারে তারা পাকিস্তানের বন্ধু বলে ভারত সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

বুধবার বিকালে ঢাকার হোটেল রেডিসনে ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া মিডিয়া ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভারতীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘আমি ভারতীয় সাংবাদিক বন্ধুদের বলতে চাই, এ কথাটা আপনাদের মনে রাখতে হবে… বাংলাদেশে আমাদের বিকল্প যারা তারা পাকিস্তানের বন্ধু।’

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিষয়টি উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘যারা আপনাদের সেভেন সিস্টার্সের যাবতীয় গ্যাঞ্জামের হোতা, যারা পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সঙ্গে কাজ করে। একই চক্রান্তের জালে তারা আবদ্ধ।’

এ সময় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের সহযোগিতা চান কাদের। বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন এগারো লাখ অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ কীভাবে ভার সইবে? একাত্তরের ক্রাইসিসে আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন, এবারও আপনারা পাশে দাঁড়ান।

ভারত থেকে আসা গণমাধ্যম প্র‌তি‌নি‌ধি‌ ও দেশ‌টির সরকারের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা জা‌নি মিয়ানমারের সঙ্গে আপনাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। আপনারা আমাদের দীর্ঘ‌ দিনের বন্ধু। আপনাদের সম্পর্ক অব্যাহত রেখে মিয়ানমারকে চাপ দিন।’

‘আপনাদের সাথে মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। কিন্তু মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে সেটা দেখে না কেউ।’

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি এগিয়ে নেয়ারও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন ঢাকায় এলেন, তখন তিনি আমাদের বলেছিলেন, তিনি এবং শেখ হাসিনা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই তিস্তা চুক্তি হবে। এ রকম আশ্বাসে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম, এখনো আশায় আছি।’

‘সামনে নির্বাচন, মাত্র সাত-আট মাস আছে নির্বাচনের, আমাদের জনগণের কাছে জবাব দিতে হয়।’

‘আমাদের বাঁচতে দিন। উত্তর জনপদ মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। তিস্তার দুই পারে হাহাকার, এই হাহাকার বড়ই কষ্টদায়ক।’

পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিকদেরকেও এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান কাদের। বলেন, ‘আপনারা পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জিকে বলুন, তিনি যেন দিল্লি সরকারকে তিস্তা ইস্যুর সমাধানে সহযোগিতা করেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সংলাপে উপ‌স্থিত ছিলেন তথ্য প্র‌তিমন্ত্রী তারানা হা‌লিম, ভারতীয় হাই ক‌মিশনের ডেপু‌টি হাই ক‌মিশনার আদ্রেশ সৈকত প্রমুখ।

সূত্র: ঢাকা টাইমস

Facebook Comments

comments