`পান থেকে চুন খসলে সব ইসলামী ব্যাংকের দোষ’

আমানতের অনুপাত হারের (এডিআর রেশিও) নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে আগ্রাসী ঋণ বিতরণ করছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল)। বিষয়টি স্বীকার করে ভিন্ন কথা বলছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আরাস্তু খান, এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ও এমডি আবদুল হামিদ মিঞা। সোমবার রাজধানীর মতিঝিল দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ সম্মেলনে ভিন্ন ভিন্ন এসব বক্তব্য দেন তারা। এ সময় ব্যাংকের সদ্য সমাপ্ত বছরের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয়।

ব্যাংকের বিভিন্ন আর্থিক তথ্য তুলে ধরে চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ শেষে ইসলামী ব্যাংকের আমানত দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, যা তার আগের বছরের তুলনায় ৮ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা বেশি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৯৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে নতুন বিনিয়োগ ৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা। ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখে। এছাড়া আলোচিত সময়ে ব্যাংকটি পণ্য আমদানি করেছে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, রফতানি করেছে ২৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রবাসীদের আয় (রেমিট্যান্স) আহরণ করেছে ২৩ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা।

সীমা লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংক আগ্রাসী ঋণ বিতরণ করছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই ব্যাংকিং করছি। অন্য ব্যাংকগুলো কত নিয়ম ভঙ্গ করছে তাদের কোনো দোষ নেই। পান থেকে চুন খসলে সব ইসলামী ব্যাংকের দোষ। তিনি বলেন, চলতি বছরই নির্বাচন হবে। তাই আগামী মুদ্রানীতিতে মূল্যষ্ফীতির ওপর জোর দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে নির্বাচনী বছরে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যায়। তাই কিছুটা তারল্য সংকট হতে পারে।

এদিকে ব্যাংকটির এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন বলেন, আমরা যখন ঋণ দিয়েছি তখন আইনি সীমার মধ্যেই ছিল। কিন্তু আমাদের একজন বড় গ্রাহক তার আমানতের টাকা তুলে নেয়ায় এডিআরে ঋণ সীমা অতিক্রম করে। একজন গ্রাহক তার আমানত তুলে নিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেখা উচিত।

এমডি আবদুল হামিদ মিঞা বলেন, আমাদের এডিআর সবসময় আইনি সীমা ৯০ শতাংশের নিচে রয়েছে অর্থাৎ ৮৭ কাছাকাছি আছে। তবে সম্প্রতি এটা কিছুটা বেড়েছিল। ৯০ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছিল। তবে আমাদের কোনো তারল্য সংকট নেই, আগামীতেও হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংগৃহীত আমানতের ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ইসলামি ব্যাংকগুলো ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারে। অবশিষ্ট অর্থ নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ জমা অনুপাত (এসএলআর) হিসেবে জমা রাখতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে। তবে ঋণের চাহিদা বেশি হলে এবং ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক সূচক ভালো থাকলে সাধারণ ব্যাংক সেই গৃহীত আমানতের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামি ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারে। ঋণ আমানতের অনুপাত (এডিআর) সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সূত্র: জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here