ডিএনসিসি নির্বাচনে শক্তি দেখাতে চায় জামায়াত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে জামায়াত। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন না থাকায় অবশ্য দলটির সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে জামায়াত প্রার্থী স্বতন্ত্র ব্যানারেই লড়বেন।

সম্প্রতি জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের এক সভায় দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘদিন থেকেই অবশ্য জামায়াতের প্রকাশ্য কোনো তৎপরতা নেই। দলটির শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগেরই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে নেতৃত্ব দেয়া নেতাদের বড় একটি অংশ কারাগারে।

বাকিরাও বিভিন্ন মামলার আসামি। তাই জামায়াত প্রার্থীরও প্রকাশ্যে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। তবে সেলিম উদ্দিন এরইমধ্যে ঘরোয়া একাধিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। তার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভোট চেয়ে প্রচারণা চলছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসার সুযোগ না থাকলেও নির্বাচনে শক্তি দেখাতে চায় জামায়াত। যে কারণে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার আগেই দলটি নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

গত কয়েক বছর ধরেই প্রধান শরিক বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জামায়াতের জন্য বিএনপিকেও অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে। যে কারণে বিএনপির অনেক নেতাই এখন জামায়াতকে এড়িয়ে চলতে চান। জোট নিয়ে জামায়াতেরও বড় কোনো মাথাব্যথা নেই। যে কারণে সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিএনপি-জামায়াত ঐক্য ছিল না। তবে সিলেটের পর ঢাকাতেই প্রকাশ্যে মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলো জামায়াত। এটি আগামীদিনের রাজনীতির জন্য বার্তাবহ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিএনপিতে যারা আলোচনায়

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে নানামুখী সংশয়ের মধ্যেও ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। বিগত নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবারও মেয়র পদে মনোনয়নের প্রথম দাবিদার। দলীয় অবস্থান থেকেও প্রার্থী হিসেবে তার নাম রয়েছে সবার উপরে। কিন্তু সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প প্রার্থী রাখার কথাও ভাবছে বিএনপি। অবশ্য ডিএনসিসি নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে বিএনপির।

দলের একাধিক সিনিয়র নেতা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছেন। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, আইন অনুযায়ী, মেয়র পদ শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। তবে এই করপোরেশনে ১৮টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে কিছু আইনগত জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে ইসি ডিএনসিসি নির্বাচন করতে পারবে কিনা বা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কিনা সে সংশয় উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

এদিকে দলের বিকল্প প্রার্থীর চিন্তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএনসিসি উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক ফুটবলার আমিনুল হক ও সহ-প্রচার সম্পাদক ব্যবসায়ী শাকিল ওয়াহেদ সুমন।

সম্ভাব্য সব প্রার্থীই নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে নিজ নিজ বলয় থেকে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে নির্বাচনী মাঠের জরিপ, নেতাকর্মীদের প্রাথমিক মতামত ও রাজধানীর ভোটারদের মনোভাব বিবেচনায় বিকল্প প্রার্থীদের মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শাকিল ওয়াহেদ সুমন।

বিগত নির্বাচনের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল নিজে বা তার পক্ষে এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি দৃশ্যমান প্রচারণা। অন্য প্রার্থীরাও এখন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছেন আলোচনায়। বিএনপির সম্ভাব্য বিকল্প প্রার্থীদের মধ্যে দৃশ্যমান প্রচারণার মাঠে নেমেছেন শাকিল ওয়াহেদ সুমন। ‘আসুন গড়ি বিশ্বমানের নগর’ স্লোগানকে সামনে রেখে তার ছবিযুক্ত পোস্টারিং হয়েছে রাজধানীজুড়ে। কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, ডিএনসিসি উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। ফলে সরকারসমর্থিত প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পেয়ে গণসংযোগ শুরু করলেও বিএনপি এখন পর্যন্ত প্রার্থীই চূড়ান্ত করতে পারেনি।

সূত্র: মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here