ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রামে না গিয়ে ৩ খানের প্রতিবাদ

সম্প্রতি ‘শালোম বলিউড’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রকে ঘিরে মুম্বাইয়ে আয়োজন করা হয় ‘শালোম বলিউড পার্টি’। সেই অনুষ্ঠানে স্বস্ত্রীক উপস্থিত হন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রায় ও বলিউডের পরিচালক করন জোহর। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন অমিতাভ বচ্চনের মতো বলিউডের মহারথী। কিন্তু সেখানে দেখা যায়নি তিন খানকে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে অন্যরকম এক প্রতিবাদ জানালেন বলিউড তারকা শাহরুখ, আমির ও সালমান খান। তিন খানের উপস্থিত না হওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ধারনা করা হচ্ছে, মুসলিম বিশ্বের উপর চালানো ইসরায়েলি আগ্রাসন ও দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের উপর অমানবিক হামলার ফলে বিতর্কিত নেতানিয়াহুকে ইচ্ছা করেই এড়িয়ে গেছেন এই তিন খান। যদিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তারা।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভারতে বামপন্থীদের বিক্ষোভ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভারত সফরের বিরুদ্ধে দিল্লিতে বাম ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। সোমবার সিপিআই, সিপিআই(এম), সিপিআই(এমএল), এসইউসিআইসহ বিভিন্ন বামপন্থী দলের পক্ষ থেকে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহনসহ স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক, ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন, নেতানিয়াহুকে স্বাগত জানানো বন্ধ কর, ফিলিস্তিনি জনতার আন্দোলনকে ‘লাল সালাম’ ইত্যাদি স্লোগানে সোচ্চার হন।

তারা ইসরাইলি হামলাকারী- মুর্দাবাদ, ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন জিন্দাবাদ, হত্যাকারী নেতানিয়াহু গো ব্যাক, ফ্যাসিস্ট নেতানিয়াহু গো ব্যাক, ফিলিস্তিনিনের রাজধানী জেরুজালেম ইত্যাদি লেখাসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের কাছে ওই বিক্ষোভ মিছিলে বাম ফ্রন্ট নেতা ডি রাজা, প্রকাশ কারাত, অতুল কুমার আনজান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাম ফ্রন্ট নেতা ডি রাজা বলেন, “আরব দেশ নয়- এমন দেশের মধ্যে ভারত প্রথম ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি সরকার সেখানকার মানুষদের ওপর জুলুম চালানো ইসরাইল দেশকে নিজেদের বন্ধু করছে। সেখানকার প্রধানমন্ত্রীকে এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিন্তু আমরা এটা বলতে চাই যে, ভারতীয় জনতা তাকে স্বাগত জানাচ্ছে না।”

বাম ফ্রন্ট নেতা অতুল কুমার আনজান বলেন, “ভারত ইসরাইলের অস্ত্রের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থ ফিলিস্তিনি জনগণের নির্যাতনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে।”

সিপিআই(এম) নেতা প্রকাশ কারাতের অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলি ঔপনিবেশিক নীতি সমর্থন করছেন। প্রধানমন্ত্রী যখন ইসরাইল সফরে গিয়েছিলেন তখন তিনি ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলেও শ্রী কারাত বলেন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here