আমির হামযার মাহফিল বন্ধ করে দিলো পুলিশ

ছাগলনাইয়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ফেনীর পূর্বাঞ্চলের হাজারো মুসলিমের বহুল প্রতীক্ষিত কুরআনের তাফসির মাহফিল বন্ধ হয়ে গেল। ওই মাহফিলে প্রধান মুফাসসির ছিলেন হাফেজ মুফতি মাওলানা আমির হামযার ( কুষ্টিয়া)। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান অতিথি ছিলেন, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল। বুধবারের ওই তাফসির মাহফিল বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ।

জানাগেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলার কাশিপুর নূরীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার বিকেলে মাদ্রাসার উদ্যোগে তাফসির মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এর আগে মাহফিল অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে ছাগলনাইয়া থানায় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আনিসুল হকের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজক কমিটিকে বিতর্কিত মাওলানা আমির হামযাকে বাদ দিয়ে মাহফিল করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ নিয়ে নানামুখী জটিলতার মুখে বুধবার সকালে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, মাহফিলকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে ফেনী জেলা ব্যাপী মাইকিং করা হয়। ফেনী ও পাশ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান সমবেত হওয়ার কথা ছিল বলে আয়োজক কমিটি থেকে জানা গেছে। মাহফিলকে কেন্দ্র করে রাস্তায় তোরণ, পোষ্টার ও মাহফিলের জন্য তৈরি করা হয় বিশাল এলাকাজুড়ে প্যান্ডেল। সব প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মাওলানা আমির হামযাকে বাদ দিয়ে মাহফিল অনুষ্ঠানের খবরে আয়োজক কমিটি ও এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা নেমে আসে। সব শেষে মাহফিল বন্ধ ঘোষণা করে আয়োজক কমিটি ।

এদিকে, মাহফিল বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র অসন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেইজবুকে মাহফিল বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মাওলানা আমির হামযার ছবি সংবলিত লেখা ভাইরাল হয়েছে ।

ফেসবুকে ইমাম হোসেন নামে একজন লিখেছেন, ছাগলনাইয়া জিরোপয়েন্টে এসে চরমনাই মাহফিল করতে পারে, তাতে প্রশাসনের মাথা ব্যথা নাই। ছাগলনাইয়া থেকে ১০ কিলো দূরে আমির হামজার মাহফিলে ১৪৪ ধারা। জানার বিষয় এই দুইয়ের মধ্যে বাতিলের আতংক কে?

সৈয়দ কামাল উদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, হাবিয়ার মার কিচ্ছা কাহিনী শোনাতে যদি তোফাজ্জল বা পরিমণির পিতারা, মাহফিলের বড় মাওলানা হয়ে আসতো তাদেরকে দেয়া হতো পুলিশি প্রটোকল। কুরআন হাদিসের কথা বলতে আসা মাওলানাদের মাহফিল স্থানে জারি হয় ১৪৪ ধারা । আমরা কি প্রকৃত ঈমানদার মুসলমান নাকি কিচ্ছা কাহিনী শুনা ধর্ম নিরপেক্ষ মুসলাম বুঝতে পারছি না? হে সর্বশক্তিমান ক্ষমতার মালিক আল্লাহ, যারা আপনার কুরআন ও রাসুলের হাদিস শোনা থেকে আমাদেরকে বঞ্চিত করেছে আপনি তাদেরকে হেদায়েত দান করুন।

এইচ এম সাইফুল মজুমদার লিখেছেন, আমির হামযার মাহফিলে ১৪৪ ধারা, হাফিজুর রহমানের মাহফিলে পুলিশের নিরাপত্তা?
সাইফুল মজুমদার লিখেছেন,কাশীপুর আর্দশ নূরীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার মাহফিলে ১৪৪ধারা জারি করা হয়েছে, হাফিজুরের মাহফিলে পুলিশি নিরাপত্তা দেয়, আমির হামজার মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, কোরআনের মাহফিলে ১৪৪ ধারা হয়, গানের আয়োজনে ১৪৪ ধারা হয় না । আল্লাহ এই জাতিকে হেদায়েত দান করুন, আমিন।

মাহফিল বন্ধের ব্যাপারে জানতে চাইলে বুধবার বিকেলে আয়োজক কমিটির সভাপতি আনিসুল হক জানান, মাওলানা আমির হামযার মতো আলেমদের বাদ দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়ার কারণে আয়োজক কমিটি মাহফিল বন্ধ ঘোষণা করেছেন ।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি এমএম মোর্শেদ জানান, সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির আশঙ্কায় বিতর্কিত মাওলানা আমির হামযাকে বাদ দিয়ে মাহফিল অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে ।

সূত্র: নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here