স্লোগানও বানাতে পারে না ছাত্রদল?

‘উত্তর-উত্তর, দক্ষিণ-দক্ষিণ, এটা কোনও স্লোগান হলো? কী বোঝাতে চাও? তোমরা নিজেরা স্লোগান তৈরি করবে। এখন তো তোমাদের পোস্টার করে দিতে হয়। কিন্তু করে দিলেও পোস্টার দেয়ালে লাগে না। একটা স্লোগানও বানাতে পারে না ছাত্রদল?’ ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এমন মন্তব্যই করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই সময় তিনি ছাত্রদলকে ছাত্রস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে-সঙ্গে ছাত্রদলেও পরিবর্তন আনতে হবে। খালি স্লোগান দিলেই চলবে না। কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষা অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে।’

তার এই নির্দেশের পর পার হয়ে গেছে একবছর। নতুন বছরে পা দিচ্ছে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল। পুরো বছরজুড়েও খালেদা জিয়ার নির্দেশ মতো ছাত্রস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি দেয়নি ছাত্রদল। আর স্লোগানেও আসেনি নতুনত্ব। পরিবর্তন হয়নি পোস্টারের ভাষা।

যদিও ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার ওই নির্দেশের পর তাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। তবে প্রশাসনের কঠোর বাধার মুখে ক্যাম্পাসে-ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে না পারায় ছাত্রস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি দিতে পারেনি ছাত্রদল। এরপরও রাজপথ ছেড়ে পালায়নি সংগঠনটি।

২০১৬ সালে ও ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় এসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ছাত্রস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি দেওয়ার নির্দেশ দেন খালেদা জিয়া। গত বছরের জানুয়ারিতে ছাত্রস্বার্থ-বিষয়ক বক্তব্য হাজির করতে এবং স্লোগানে নতুনত্ব আনারও পরামর্শ দেন তিনি। তার এই পরামর্শকে অনেকটাই ভুলে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ওই বছর ছাত্রদলের যত বিক্ষোভ হয়েছে, বেশিরভাগই ঝটিকা। পাশাপাশি অধিকাংশ বিক্ষোভই বিএনপির কোনও নেতাকে কেন্দ্র করে হয়েছে।

২০১৬ সালে তনু হত্যাসহ ছাত্র ও শিক্ষা সম্পর্কিত কোনও ইস্যুতেই কর্মসূচি দেয়নি ছাত্রদল। এ নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখা যায়নি সংগঠনটির মধ্যে।

ছাত্রদলের দফতর থেকে জানা গেছে, সংগঠনটি এই বছরজুড়ে পোস্টার করে প্রায় নয়টি। এর মধ্যে কোনও পোস্টারে ছাত্রস্বার্থ ছিল না। সব পোস্টারই ব্যক্তিনির্ভর।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, ‘২০১৭ সালে বিভিন্ন সময়ে পোস্টার বের করেছে সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস, সাতই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ২০ নভেম্বর তারেক রহমানের জন্মদিন, দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ১ জানুয়ারি, জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ৩ জানুয়ারি, তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস ৭ মার্চ, জিয়াউর রহমান, মাহবুবুল হক বাবলু ও সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন পিন্টুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে।

ছাত্রদলের একটি সূত্র জানায়, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও চেইন অব কমান্ড অনেকটাই নড়েবড়ে হওয়ায় প্রকাশনায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোয় পোস্টার না করলেই নয়, এমন দিনেই কেবল পোস্টার করেছে ছাত্রদল।

২০১৭ সালে ছাত্রস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে ডাকসু নির্বাচন, মেট্রোরেলবিরোধী আন্দোলন অন্যতম ছিল। এই দু’টি ইস্যুতেও নীরব ভূমিকা পালন করে ছাত্রদল।

কিন্তু কেন এই নীরবতা বা স্লোগানে নেই নতুনত্ব-এমন প্রশ্ন ছিল ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের কাছে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বললেন, ‘ছাত্রস্বার্থ ইস্যু নিয়ে কর্মসূচি দিতে হলে, মিছিল-বিক্ষোভ করার উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাসেই প্রবেশ করতে পারেনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এরপরও প্রোগ্রাম নিয়েই মাঠে ছিল ছাত্রদল।’

আসাদুজ্জামানের অভিযোগ, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল ছাত্রলীগের। কিন্তু এখন প্রতিপক্ষ প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার কারণে আমরা ক্যাম্পাসে যেতে পারছি না। প্রতিদিন ১০-১৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও রাজপথ ছাড়েনি ছাত্রদল। চেয়ারপারসনের প্রোগ্রামসহ প্রতিটি অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি অনেক বেশি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘ইনশাল্লাহ আগামী বছর আমরা চেয়ারপারসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আরও সক্রিয় হবো।’

জানতে চাইলে ছাত্রদলের প্রথম সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের শত বাধার পরও ছাত্রদল এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে যাবে। একইসঙ্গে দলীয় চেয়ারপারসনের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হবে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here