র‌্যাবের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে লোক ছিনিয়ে নেয়ার মতো মানুষেরা আছে এদেশে!

আহরাম বিডি ডেস্ক

দীর্ঘদিন পর নিজের অপহরণ ও গুম নিয়ে মুখ খুললেন কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি বলেছেন, সাদা পোশাকের কিছু লোক র‍্যাবের কাছ থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। অপহরণকারীরা তাঁকে খুলনা-যশোর সীমান্তের দিক দিয়ে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের নামে বলতে বাধ্য করা হয় যে, আমি বিনোদনের জন্য বেরিয়েছি।

র‌্যাবের সাথে সাদা পোশাকের কিছু লোকের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সাদা পোশাকের কিছু লোক র‍্যাবের দিকে বন্দুক তুলে শাসিয়ে আমাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রচণ্ড তর্কাতর্কি হয়। তবে র‍্যাব রীতিমতো ছোটখাট যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে আমাকে তাঁদের গাড়িতে ওঠায়। কিন্তু সাদা পোশাকের লোকগুলো র‍্যাবের গাড়ি থেকে আমাকে নামানোর চেষ্টা করে।’ ফরহাদ মজহার আরও বলেন, অপহরণকারীরা তখনো এলাকায় থাকতে পারে ভেবে র‍্যাব তাঁকে খুলনায় নিয়ে চিকিৎসা-বিশ্রামের পাশাপাশি তদন্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু কে বা কারা র‍্যাবের গাড়ির দুই দিকের রাস্তায় ট্রাক থামিয়ে পথরোধ করে রেখেছিল। (প্রথম আলো)

ফরহাদ মজহারের এমন বক্তব্যের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের তৈরি হয়েছে। গুম-খুনে কারা জড়িত এবং র‌্যাবের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার মত এবং সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়ার মত কেউও আছে এ দেশে এমনটা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এমন অবস্থায় গুম হওয়া পরিবারগুলোও নতুন করে আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন। তাদের স্বজনদেরকে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে তাদের মনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. আসিফ নজরুল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন-

“কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যে – বিশ্বাস করা আপনার বিষয়। কিন্তু জাষ্ট চিন্তা করে দেখেন, ফরহাদ মজহারের বক্তব্য সত্য হলে কি ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে দেশে।

যেমন: তার বক্তব্য সত্য হলে তার মতো একজন মানুষকে (ফলে যে কাউকে) ধরে সীমান্তের অন্যপারের দেশে নেয়ার চিন্তা এবং চেষ্টা করার মতো শক্তি আছে এদেশে। দুই: র‌্যাবের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার মতো সাদা পোষাক পড়া মানুষেরা আছে এদেশে। তিন: মিথ্যে একটি জবানবন্দী লিখে তার মতো একজন মানুষের ( বা যে কোন মানুষের) নামে চালিয়ে দিতে পারে পুলিশ।

এমন অভিযোগ খুবই ভয়াবহ। এসব অভিযোগের তদন্তটি হওয়া উচিত বিচার বিভাগীয় এবং তা উচ্চ আদালতের কোন শ্রদ্ধেয় বিচারকের নেতৃত্বে।

তবে মনে হয়না হবে তা। বরং মুখ খোলার কারণে বাড়তে পারে এই অসহায় মানুষটার প্রতি অত্যাচার আর নির্যাতন।”

উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই ভোরে বাসার কাছ থেকে অপহরণ ও এর ১৮ ঘণ্টা পর খুলনা থেকে উদ্ধার হন ফরহাদ মজহার। এরপর তাকে নিয়ে নানা ঘটনা পরিক্রমার পরও দীর্ঘদিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তিনি।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি জীবিত ফিরে আসায় আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। আমি সারা জীবন মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছি। বাংলাদেশে গুমের এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে, সকল মান-অপমান সহ্য করে হলেও বাংলাদেশে এ যাবৎ গুম হয়ে যাওয়া মানুষ যেন তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারে সে ক্ষেত্রে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।’

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here