‘বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে ইসি’

নির্বাচন কমিশনার বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপিকে নির্বাচন কমিশন অনেক সুবিধা দিয়েছে এবং দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কোনো মন্ত্রী যেতে পারেন না। বিএনপির সাবেক মন্ত্রীরা যেতে পারে এমনকি খালেদা জিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নাই। অথচ আওয়ামী লীগের কোন এমপি সেখানে গিয়ে প্রচারণা চালাতে পারে না। এটি বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব।’

মঙ্গলবার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় তিন নেতার মাজারে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আগামী ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপিরা প্রচারণা চালাতে পারবে না এটি হতে পারে না। এটি বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব।’

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির দাবি সম্পর্কে সাবেক এই বনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যেমন একটি রাজনীতিক দল আওয়ামী লীগও একটি রাজনীতিক দল। নির্বাচনে তারা যেমন একটি পক্ষ আমরাও একটি পক্ষ। আমাদের দাবি হচ্ছে সংবিধানের এক চুলও ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। সংবিধানে যা আছে ঠিক সেইভাবে নির্বাচন হতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, ‘যখন খালেদা জিয়া বলেন তারেক রহমানকে বাংলাদেশের মানুষ ভালোবাসে তখন বাংলাদেশের মানুষ মুচকি হাসে। বেগম খালেদা জিয়া তার পুত্রকে প্রাণভরে ভালবাসেন তাতে কোনো সমস্যা নাই। দয়া করে এটা বলবেন না বাংলাদেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে তারেক রহমান। দুর্নীতির নাম তারেক রহমান।’

সৌদি আরবে বিএনপির ‘অবৈধ’ সম্পত্তি দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, ‘সৌদি আরবে তদন্তে বের হয়ে এসেছে ১২টি দেশে তাদের অবৈধ সম্পদ আছে। এখন বিএনপি নেতারা চুপসে গেছে। ফখরুল সাহেবের মুখেও কোন কথা নাই। কি বলবেন বুঝতে পারছে না। যে সম্পত্তিগুলোর কথা বের হয়ে এসেছে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হোক। সেই সম্পত্তি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

রাজনীতি এখন বিত্ত অর্জনের মাধ্যম এমন মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, রাজনীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সামরিক শাসকরা দায়ী। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় বসেন তখন তিনি প্রকাশ্যে বলতেন ‘মানি ইজ নো প্রোবলেম’। আর একটি কথা বলতেন ‘আই স্যাল মেইক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট’। তিনি সেই কাজটিই করে গেছেন। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ঘটিয়েছেন জিয়াউর রহমান। আর জিয়াউর রহমানের এই পথ অনুসরণ করে বেগম খালেদা জিয়া ষোল কলায় পূর্ণ করেছেন। সেটিকে আরও এক ধাপ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মানুষের জন্য রাজনীতি করতেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি কখনো ড্রয়িং রুমের রাজনীতি করেননি। তিনি প্রথমে শ্রমিকদের রাজনীতি করেছেন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আক্তারুজ্জামান, অ্যাডভোকেট সামছুল হক টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: ঢাকা টাইমস

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here