নিজের প্রাণ বাঁচাতেই কুদস বিক্রি করেছেন ট্রাম্প!

মুহাম্মদ নোমান

“নিজের প্রেসিডেন্সী বাঁচাতে ট্রাম্প জেরুসালেমে ইসরাইলের প্রোটেকশন কিনেছেন”- কথাটি বলেছেন রিগ্যান প্রশাসনের অর্থ-প্রতিমন্ত্রী পল ক্রেইগ রবার্টস। কুদস নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ‘দ্যা রিচি আল্যান শো’ নামে একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। গত ৮ই ডিসেম্বর তিনি “পরমাণু যুদ্ধ এভয়েড করাই আমাদের ফার্স্ট প্রাইওরিটি” শিরোনামে একটি কলামও লেখেন। এই প্রবন্ধে তিনি দাবী করেছেন, সিআইএ ট্রাম্পকে হত্যা করতে পারে। তাই নিজের জীবন এবং ক্ষমতা রক্ষা করতে তিনি মোসাদের সহায়তা নিচ্ছেন। একরকম মোসাদই তাকে হোয়াইট হাউজে সুরক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু ইসরাইল বিনামূল্যে কোন সেবা দিতে রাজি নয়। তাই জেরোসালেম দিয়ে ট্রাম্প সেই মুল্য পরিশোধ করেছেন। তিনি বলছেন-

“…..প্রকৃতপক্ষে ট্রাম্প খুব নিরাপদে আছেন। টুইটারে নিজের হতাশা ব্যাক্ত করা ছাড়া তাঁর আর তেমন কোন কাজও নেই।….. মূলত আমেরিকা শাসন করছে গোয়েন্দা বিভাগগুলো এবং ওয়ালস্ট্রিট। আর এই দুইটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরাইলী লবি, যারা ওয়াশিংটনকে ১৬ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের লড়াইয়ে সহযোগিতা করছে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন জনগণের অংশগ্রহণ শূন্যের কোটায়।…. এটা যদি বুঝে থাকেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে, কেন ট্রাম্প মার্কিন দূতাবাস জেরোসালেমে স্থানান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন? আমেরিকায় তৎপর সবচেয়ে শক্তিশালী লবিগুলোর একটি হচ্ছে ইসরাইলী লবি। প্রায় চতুর্দিক থেকে আক্রমণ ও সমালচনায় জর্জরিত ট্রাম্প স্বভাবতই নিজেকে রক্ষা করার জন্য ইসরাইলী লবি এবং মোসাদের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য আর কাউকে তাঁর পাশে পান নি।…. সিআইএ নিজেও জানে জানে যে, তাদের মধ্যে মোসাদের ডাবল এজেন্ট গিজগিজ করছে। তাই, সিআইএ যদি ট্রাম্পকে হত্যার কোন প্রজেক্ট হাতে নেয়, তাহলে ট্রাম্প তা সঠিক সময়ে এবং নিশ্চিতভাবেই জানতে পারবে।… মোসাদ নিশ্চিতভাবে সিআইএ-র চেয়ে অনেক বেশী চৌকস। অতএব, তারা যদি ট্রাম্পকে সুরক্ষা দেয়, তাহলে তিনি অবশ্যই মার্কিন গোয়েন্দাদের আক্রমনের মুখে টিকে থাকতে পারবেন।…. আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ, অনুগত আমেরিকা ও ইইউর সিদ্ধান্তাবলী কারণে ইসরাইল এমনিতেই ফিলিস্তিনের মালিক বনে গেছে। রেড ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা যা যা অর্জন করেছিলো আজকের ইসরাইলও সেগুলো অর্জন করেছে। আর এখন তো ট্রাম্প ইসরাইলের হাতে সর্বশেষ পুরস্কারটিও তুলে দিলেন- জেরোসালেম। তাহলে কেন তারা তাকে রক্ষা করবে না?…”

কথাগুলো আমরা প্রায়ই বলি। কিন্তু কোন প্রভাবশালী আমেরিকান রাজনীতিবিদের মুখ থেকে শুনার ব্যাপারটা আলাদা। তিনি এই লেখায় স্পষ্ট করেছেন যে, যে ফেয়ার ডেমোক্রেসির নামে আমেরিকা সারা দুনিয়ায় বুক ফুলিয়ে গর্ব করে তা স্রেফ ভাউতাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। আমেরিকা নামক রাষ্ট্র-দানবের লাগাম সেদেশের জনগণের হাতে নেই। তার লাগাম আছে ইহুদীদের হাতে এবং চাবি তেলআবিবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে একজন মার্কিন নাগরিক একজন উত্তর কোরীয় নাগরিকের চেয়ে বেশী সৌভাগ্যবান নয়।

লেখক: অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here