কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহতের ঘটনা নাশকতা!

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নাশকতার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে আশঙ্কা করছেন তার ছেলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী।

সোমবার রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে নাশকতার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কেউ পরিকল্পিতভাবেও এ ঘটনা ঘটাতে পারেন।

আওয়ামী লীগ নেতা নওফেল আরো বলেন, আর কোনো কমিউনিটি সেন্টারে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। রীমা কমিউনিটি সেন্টারে কেন এ ঘটনা ঘটলো তা তদন্ত করে দেখা উচিত। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে কী ঘটেছে।

তবে জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত মানুষের চাপে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপরও অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তা যাচাই করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কুলখানিতে কেন এতো হতাহতের ঘটনা?

চট্টগ্রামের সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের রীমা কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের আয়োজনে এই ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির

চৌধুরীর কুলখানিতে চট্টগ্রামের ১৩টি কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানির আয়োজন করা হয়েছিল। তার একটি ছিল এই রীমা কমিউনিটি সেন্টার।

দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বহু আহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে।

কিন্তু একটি কুলখানির অনুষ্ঠানে কেন ঘটলো এই দুর্ঘটনা?

গত ১৫ই ডিসেম্বর মারা যান চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি বেশ বড় করেই আয়োজন করা হয়েছিল। বাসায় দোয়া ও মিলাদের আয়োজন থাকলেও, কুলখানির আয়োজন করা হয়েছিল নগরটির ১৩টি কমিউনিটি সেন্টারে। মহিলাদের জন্য আয়োজন ছিল বাসায়।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, অমুসলিম ও যারা গোমাংস খান না, তাদের জন্যই এই কমিউনিটি সেন্টারটিতে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রায় চার হাজার ধারণ ক্ষমতা থাকলেও এই সেন্টারটিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে আসেন।

যারা মারা গেছেন, তাদের সবাই অমুসলিম।

চট্টগ্রামের উপ পুলিশ কমিশনার মোস্তাইন হোসেন বলেন, এখানে কুড়ি জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে কোন মারামারি বা বিশৃঙ্খলা হয়নি। হঠাৎ করে মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় কয়েক মিনিটের মধ্যে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়।

সেখানে দায়িত্ব পালনকারী দমকল বিভাগের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, কমিউনিটি সেন্টারটি ছিল একটি ঢালু জায়গায়। হাজার হাজার মানুষ এখানে অংশ নিতে এসেছিলেন। খাবারের জন্য গেট খুলে দেয়ার সাথে সাথে পেছন থেকে প্রচণ্ড চাপ শুরু হয়ে যায়। তখন সামনে যারা ছিলেন, তাদের কয়েকজন পড়ে গিয়ে মারা যায়।

সামনে ঢালু জায়গা থাকা আর অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

আসকার দীঘিরপাড় এলাকার এস এস খালেদ রোডের সামনে খানিকটা খোলা জায়গা নিয়ে দ্বিতল এই কমিউনিটি সেন্টারটি অবস্থিত। এর নীচ তলায় গাড়ি পার্কি, দোতলায় খাবারের ব্যবস্থা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে, অনেকটা হঠাৎ করেই ঘটনাটি ঘটে যায়। গেট খুলে দেয়ার পর একসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। প্রবেশ পথটি কিছুটা ঢালু হওয়ায় অনেকে পড়ে যান। তখনি এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে নয়জনকে সাথে সাথেই মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসকরা। আরো কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল খান সুমন বলেন, এই কমিউনিটি সেন্টারটির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে তিন থেকে চার হাজার। কিন্তু এখানে ১০ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। ফলে প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

আয়োজক এবং স্বেচ্ছাসেবীদের অনভিজ্ঞতা আর অব্যবস্থাপনাকেও তিনি এর জন্য দায়ী করেন।

আহতদের মধ্যে অনেককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সূত্র: আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here