কাতারে আরো সেনা পাঠিয়েছে তুরস্ক

কাতারে আরো সেনা পাঠিয়েছে তুরস্ক। দু’দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা বিষয়ক চুক্তির অধীনে সেনাদের নতুন একটি ব্যাচ এরই মধ্যে পৌঁছেছে কাতারে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিতে। কাতারের রাজধানী দোহায় আল উবেইদ বিমান ঘাঁটিতে সেনারা পৌঁছেছেন বলে মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তুরস্কের এই সেনা দলের মধ্যে রয়েছে তুরস্কের জয়েন্ট ফোর্সড কমান্ডের সেনারাও। দোহার দক্ষিণে তারিক বিন জিয়াদ সামরিক ঘাঁটিতে তুর্কি সেনাদের আগের দলটির সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা তাদের। নতুনভাবে যাওয়া তুর্কি সেনারা কাতারের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবেন, যাতে তাদের সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

এর আগে প্রথমে কাতারে ২০১৫ সালে সেনা মোতায়েন করে তুরস্ক। ২০১৪ সালে এ বিষয়ে চুক্তি হওয়ার পর সেখানেই তারা নির্মাণ করেছে তুরস্কের সেনাদের জন্য একটি সামরিক ঘাঁটি। মধ্যপ্রাচ্যে এমন স্থাপনা এটাই প্রথম। এই ঘাঁটিতে ৫ হাজার সেনার আবাসন সুবিধা আছে। চুক্তি অনুযায়ী, ধীরে ধীরে কাতারে নিজেদের সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে ৩ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে তুরস্কের।

২০১৬ সালের এপ্রিলে কাতারের সঙ্গে আলাদা একটি চুক্তি হয় তুরস্কের। এ বছর জুনে ওই চুক্তি অনুমোদন করে তুরস্কের পার্লামেন্ট। এ চুক্তিটিও তুরস্কের ওই ঘাঁটিতে সেনা সদস্য মোতায়েন সংক্রান্ত। এ ছাড়া ২০১৫ সালে সম্পাদিত চুক্তিও অনুমোদন করে তুরস্কের পার্লামেন্ট। এর অধীনে কাতারের নিরাপত্তা রক্ষীদের প্রশিক্ষণের জন্য তুরস্কের সেনাবাহিনীকে সেখানে মোতায়েন অনুমোদন করা হয়।

উল্লেখ্য, এ বছর ৫ই জুন কাতারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর। এ সময় দোহা’র পাশে এসে দাঁড়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। তিনি দোহাকে সমর্থন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন দোহা’র বড় সমর্থক।
দোহা’র বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করা ওই চারটি আরব দেশের অভিযোগ হলো, দোহা সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে। তারা আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক।

ওদিকে অবরোধ দেয়ার পর কাতারের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী ভর্তি করে কার্গো জাহাজ ও কয়েক শত বিমান পাঠিয়েছে তুরস্ক। কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে আরব দেশগুলো ১৩ দফা প্রস্তাব দেয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো কাতারে সচল তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেয়া।

তবে এর আগে আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) সিনিয়র একজন সদস্য ইয়াসিন আকতায় বলেছেন, কাতারে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি আঞ্চলিক ভারসাম্যতা রক্ষা করেছে। কাতারের সামরিক ঘাঁটির মাধ্যমে তুরস্ক শুধু তার নিজের স্বার্থ রক্ষা করছে। দ্বন্দ্বে লিপ্ত কোনো পক্ষের দিকে অবস্থান নেয় নি তারা। তিনি আরো বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আঙ্কারার স্বার্থেই। তাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে যেমন তুরস্ক তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। ঠিক একই রকম অবস্থান হবে কাতার আক্রান্ত হলে।

সূত্র: মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here