ইমাম আবু হানিফা (রাহঃ) ও আল্লামা সাঈদী

লিখেছেন: বঙ্গবীর

প্রসিদ্ধ হানাফী মাজহাবের প্রবর্তক ইমামে আ’যম আবু হানিফা (রাহঃ) ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাসিসরে কোরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী (মাদ্দঃ) দুই মহান মনীষকে নিয়ে আজকের প্রবন্ধ। দুই জনই জালিম শাসকের রোষনলের শিকার। একজন মধ্যযুগের অন্যজন আধুনিক যুগের।

ইমামে আ’যম আবু হানিফা (রাহঃ)

ইমাম আবুহানিফা (রাহঃ)সম্পর্কে নতুন করে পরিচয় দিয়ে প্রবন্ধের কলেবর বাড়িয়ে পাঠকদেরর ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটানোর মতো কাজ আমি করতে চাচ্ছি না। কারণ ভারতীয় উপমহাদেশের সকল মুসলমান তাঁর সম্পর্কে কমবেশি জানেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও জালিম শাসকের বিরুদ্ধে তাঁর কী ভূমিকা ছিল ? তা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা।

একজন সত্যপন্থী আলেম হিসেবে সে সময় তাঁর যা কর্তব্য ছিল তিনি তাই করেছেন। যখন উমাইয়্যা বংশীয় খলিফাদের অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা ও অমানবিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সারা দেশে আন্দোলনের সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে মারওয়ানের শাসনামলে আব্বাসীয় খিলাফতের দাবিদার আন্দোলন সমগ্র ইরাক ও কুফায় উমাইয়্যা খিলাফতের সিংহাসন কাঁপিয়ে তুলেছিল। তিনি এই আন্দোলনে সমর্থন দান করেন।

১২০ হিজরীতে যায়েদ ইবনে আলী (রাহঃ) কুফায় বিদ্রোহ করেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে সাহায্য করেন। জনগণকে তাঁর সহযোগিতার করার দীক্ষা দেন। তিনি যায়েদের বিদ্রোহকে বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর বহির্গমনের সাথে তুলনা করেন। অর্থাৎ যায়েদের বিদ্রোহ সঠিক ও সন্দেহমুক্ত। এ বিদ্রাহে যায়েদ (রাহঃ) শহীদ হন।

তার বিরাট প্রভাবের কারণে ইয়াজিদ ইবনে হুরায়রা তাঁকে প্রধান কাজীর পদ গ্রহণ করতে প্রস্তাব আনেন। ইমাম তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইয়াজিদ, কসম খেয়ে বলল, আপনি এ প্রস্তাব গ্রহণ করতে বাধ্য। ইয়াজিদের উদ্দেশ্য ছিল ইমামকে চাকরিতে বন্দীর মাধ্যমে তার সরকারি বিরোধী আন্দোলন দমিয়ে রাখা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করানোর মাধ্যমে ইমামকে কলুষিত করা। কিন্তু ইমাম আপন সিদ্ধান্তে অনড়। ইমামের আত্মীয়, বন্ধু ও হিতাকাঙ্খীরা ভয় দেখালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইয়াজিদ কোন মুসলমানকে হত্যার আদেশ দিবে, আর আমি তার কার্যকর করার অনুমোদন দেব ? এতো অনেক দূরের ব্যাপার, সে যদি বলে, আপনি মসজিদের দরজাগুলো গুনে দিন, তাও আমি একই ভাবে ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করব।

ইয়াজিদ রাগে অন্ধ হয়ে জেলে পুরে প্রতিদিন ইমামকে ১০টি করে দোররা মারার আদেশ দেয়। প্রতিদিন এভাবে চলতে থাকে। পরে তাকে মুক্তি দেয়। এরপর ১৩১ হিজরীতে উমাইয়্যা শাসনের অবসান হয়। শুরু হয় আব্বাসীয় শাসন। নবী বংশের দোহাই দিয়ে ক্ষমতা পাওয়ার পর, উমাইয়্যারা যে সব ঘৃণিত কাজ করত তার চেয়েও মর্মান্তিক ও ঘৃণ্য কাজ আব্বাসীয় খলিফারা করতে থাকে।
যেমন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম সে সময়ের সুন্দরতম পুরুষ, অদ্বিতীয় তাই লোকে তাকে দীবাজ (রেশমী কাপড়) নাম দিয়েছিল। কুখ্যাত মনসুর তাঁকে দাঁড় করিয়ে চারিদিকে দেয়াল তুলে জীবন্ত কবর দিয়েছে। একবার উমাইয়্যারদের কিছু গন্যমান্য লোক আব্বসীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পেয়ে তাদের কাছে আসে।খানা খাওয়ানোর জন্য বিশাল দস্তরখানা বিছানো হয় এমতাবস্থায় তাদেরকে হত্যা করে সেখানে হত্যাকৃত লোকদের উপর আরেকটি দস্তরখানা বিছিয়ে মজা করে খাবার শেষ করে আব্বাসীয়রা। এমনকি মৃত উমাইয়্যা খলিফাদের কবরগুলো খুঁড়ে তার ভেতর থেকে হাঁড়গুলো তুলে জ্বালিয়ে ফেলেছে আব্বাসীয়রা।

কুখ্যাত মনসুর আলী (রাঃ) এর বংশের সন্তানদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করে। বিভিন্ন দার্শনিক মতবাদের বিরুধীতার কারণে আলমগণের উপর শুরু করে অত্যাচারের স্টিল রুলার।এসব কারণে ১৪৫ হিজরীতে মুহাম্মদ নাফসে যাকিয়াহ বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বীর যাকিয়ায় রমযান মাসে যুদ্ধ করে শহীদ হন এবং তাঁর ভাই ইব্রাহীম ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়ে লড়াই করে শহীদ হন। ইমাম আবু হানিফা তাঁদের শাহাদাতের খবর শুনে ব্যাকুল হয়ে কাঁদেন, খাঁচা বন্ধী অসহায় সিংহের মতো ছটফট করতে থাকেন। যেহেতু এই বিদ্রোহে তিনি পূর্ণ সমর্থন দেন।

ইব্রাহীমকে প্রেরিত একটি চিঠির অংশবিশেষ এখানে দেওয়া হল – “আমি আপনার কাছে চার হাজার দিরহাম পাঠালাম। এসময় আমার কাছে যা ছিলো। আমার কাছে মানুষের আমানত গচ্ছিত না থাকলে আমি অবশ্যই আপনার সঙ্গে থাকতাম। আপনি যখন বিজয়ী হবেন তখন শত্রুর সাথে সেই আচরণই করবেন যা আপনার পিতা ‘সিফ্ফীনের’ পরাজিতদের সাথে করেছিলেন।“পলাতক ও আহতদের মেরে ফেলো” এ পদ্ধতি আপনি গ্রহণ করবেন না। আপনার পিতা ‘জঙ্গে জামালে’ এ পথ খোলা রেখেছিলেন। কেননা প্রতিপক্ষ অত্যন্ত সংঘবদ্ধ এবং সংখ্যায় অনেক”। যুদ্ধে জিতে মনসুর ইমামকে ডেকে ‘প্রধান কাজীর’ পদ গ্রহণ করতে অনুরোধ জানায়। তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি এ পদের যোগ্য নই। খলিফা মনসুর বলল, আপনি মিথ্যাবাদী। তখন ইমাম বললেন, আপনার কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমার কথাই সঠিক। কারণ একজন মিথ্যাবাদী “রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি” পদের উপযুক্ত হতে পারে না। মনসুরের উত্তর দেবার মতো ক্ষমতা ছিলনা তাই সে কারাগারে বন্ধীর নির্দেশ দিল।

কারগারে বসেই ফিকাহ শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনা চালিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের পড়াতেন, জনগণের বিভিন্ন মাসআলার জবাব দিতেন। ১৪২ হিজরী থেকে ১৫০ হিজরী পর্যন্ত ১২ লাখ ৯০ হাজারের অধিক মাসআলা লিপিবদ্ধ করেছিলেন।মনসুর এতেও ক্ষান্ত হয়নি।তাঁকে খাদ্যে বিষ প্রয়োগ করায়।তিনি সেটা বুঝতে পেরে সিজদায় পড়ে যান, এই অবস্থায় শহীদ হন।

আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী

এই মহান ব্যক্তি সম্পর্কেও নতুন করে পরিচয় দেওয়ার মতো কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কেননা এমন কোন মুসলিম ব্যক্তি পাওয়া দুষ্কর যার মোবাইলে সাঈদীর ওয়াজ নেই। এমনকি আওয়ামী লীগ সমর্থকও তাঁর ওয়াজকে গুরুত্ব সহকারে শুনে। তিনি শুধু দেশের নয় বরং মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সম্পদ।

তিনি ওয়াজকে কিচ্ছা কাহিনী বা নবী অলীর অস্বাভাবিক কাহিনীর বাহন অথবা প্রচলিত ওহাবী-সুন্নী আলেমদের মতো সময়ের তিন ভাগের দুই ভাগ গালাগালিতে ব্যয় নীতি গ্রহণ না করে মুসলমানদের পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার করতে চেয়েছিলেন। সাথে সাথে অমুসলিমদের মাঝে ইসলামের সাম্য, উদারতা, নারীর অধিকার গণতান্ত্রিক মতামত, ইসলাম সুন্দর আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত জীবন ব্যবস্থা, গরীবদের সহায়তাকারী, শান্তির একমাত্র ঠিকানা- এসবই যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পন্থায় বাস্তব উদাহরণের সাহায্যে হৃদয়গ্রাহী সহজ অথচ প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করতেছিলেন। যার ফলে শত শত অমুসলিম তার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এটাই তাঁর জন্য কাল হল।

তিনি বর্তমানের তথাকথিত পীরি-মুরীদী ব্যবসায় নিজেকে জড়াতেন তাহলে, দেওয়ানবাগ ও মাইজভান্ডার এর চাইতে মজমা ভালোই জমাতে পারতেন। পাকিস্তানের তাহের শাহের জৌলুসের চাইতে তার জৌলুসের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনেক অনেক বড় হতো। তিনি চাইলে অতীত-বর্তমানের অপরাপর আলেমদের মতো নীতি কথা বলে, লিখে বা প্রচার করে যেতে পারতেন এবং মানিয়ে চলো, বাঁচিয়ে চলো, কৌশলে চলো, এড়িয়ে চলো তথা আপনি বাঁচলে বাপের নাম নীতি গ্রহণ করতে পারতেন। এর সুফল ও অন্যান্য আলেমদের থেকে বহুগুণে বেশি পেতেন।

কিন্তু তিনি সেই সব সত্যপন্থী আলেমগেণের কন্টকাকীর্ণ পথকেই বেঁচে নিলেন যারা বিশ্বাস ও আমল করতো “অত্যাচারী শাসকের সামনে হক কথা বলাই সর্বোত্তম জিহাদ” এই হাদিসের উপর। ফলে ১৯৭২ সালের আগে কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত না হওয়া সত্ত্বেও তাকে কারাবন্দী করলো; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত অজুহাতে। অথচ ৩০ বছর সেই ধর্মকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা ও প্রচার প্রসারের কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি।

তাকে এমন মামলায় ফাসিঁ দিল, যে মামলায় নিহতের ভাই স্বাক্ষী দিতে এসেছিলো “সাঈদী আমার ভাইকে খুন করেনি” মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কোন ভূমিকা নেই মর্মে ১৯৯৬ সালের সংসদে, এর পরে বিভিন্ন পত্রিকায় এবং চট্টগ্রাম তফসীর মাহফিলে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন যে, যদি তাঁর উপস্থিতে কেউ প্রমাণ করতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর কোন ভূমিকা ছিলো তবে স্বজ্ঞানে স্বেচ্ছায় জাতীয় সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেবেন এবং যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দল, প্রশাসনের কোন অংশ ও গোয়েন্দা বিভাগ এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেনি।

কিন্তু বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মাওলানার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইমেজ নষ্ট করার জন্য বিচারের নামে নাটক সাজিয়েছে। অপারাধের জন্য বিচার নয় বরং প্রতিপক্ষকে নির্মূলে ফাঁসির জন্য বিচার। তাই তাঁকে ফাঁসি দিতে উপন্যাসের পাতাকেও সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, সাক্ষীকে গুম করতে হয়েছে। এমন এমন অপবাদ তাঁর উপর আরোপ করেছিলো যা শুনে তাঁর বড় ছেলে রাফীক বিন সাঈদী ইন্তিকাল করলেন। যাকে এক প্রকার শহীদি মৃত্যু বলা যায়। আজ সরকার এদেশের গণমানুষের ভয়ে অত্যাচারী, কুখ্যাত মনসুরের ইমাম আবু হানিফা (রাহঃ)এর মৃত্যু নীতি গ্রহণ করে আমৃত্যু জেল দিয়েছে।

তবে ইমামে আ’যম এবং আল্লামা সাঈদীর মধ্যে পার্থক্য হলোঃ

ইমাম আ’যম আবুহানিফা (রাহঃ)

০১। কারাগারে ফিকাহ শাস্ত্রের গবেষনা করতে পারতেন প্রয়োজনীয় বই পুস্তকের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

০২।শিক্ষার্থীদের দারস দিতে পারতেন।

০৩। যেকোন মানুষ দেখা করে বিভিন্ন মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে পারত এবং এর সুযোগ ছিল।

০৪।তাঁকে জব্দ করতে গিয়ে মনুসর জেনাকার, চুর, ডাকাত, সম্পদ লুণ্টনকারী হিসেবে অপবাদ আরোপ করেনি।

০৫।মনসুর কখনো ইমামের ব্যাপোরে কোন কটুক্তি করেনি।

০৬। ইমাম আবুহানিফাকে ইবাদত (বিভিন্ন নফল ইবাদত)করার ও তাঁর ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সব উপকরণে নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী

০১।বিভিন্ন ধরনের আইনি নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে।

০২। এই সুযোগ রাখা হয় নাই।

০৩।দুর্ভাগ্য এতেও নিষেধাজ্ঞা আছে।

০৪। তাঁর নামে বিভিন্ন ধরনের জঘন্যতম অপবাদ আরোপিত হয়েছে।

০৫। বর্তমান সরকার অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রীশুদ্ধ এই সৌজন্যতাটুকু রক্ষা করেনি।

০৬। আল্লামা সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের পর তার থাকার ঘর ছিল একটি কবরের তুল্য এবং কয়েক গজ দূরে অবস্থিত ফাঁসির কাস্টুরি দেখা যেত।একটিমাত্র কাপড় ব্যবহার করতে দিয়েছিল। তাও ধর্মীয় একজন আলেমের পোষাকের মতো ছিলনা।

এমনকি দ্বীনে ইলাহি এর প্রবর্তক পাপিষ্ট আকবরও তার নতুন ধর্মের বিরুধি শেখ আহমদ ফারুকী (রাহঃ) এর প্রতি কোন কটুক্তি ও চারিত্রিক কোন কলঙ্ক লেপন করেনি। যা সাঈদীর বেলায় বর্তমান সরকার আরোপ করেছে। বিরুধী নেতার প্রতি সামান্যতম সৌজন্যতা ও সম্মান দেখানোর প্রতিও চরম কৃপণতা প্রদর্শন করেছে। তাই আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন “শির দেগা ; নেহি দেগা আমামা” নীতির উপর অটল থাকেন। এবং শেখ আহমদ ফারুকীর (রাহঃ) মতো জনগণের মাঝে, কোরআনের ময়দানে ফিরে আসেন। তাঁর প্রাঞ্জল ভাষায় তাফসীর শুনার সৌভাগ্য আমাদের হয়। আমীন।

সূত্র: টুডে ব্লগ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here