‘হাসিনার সামনে বিদায়ের দুটি পথ খোলা রয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে বিদায়ের দুটি পথ খোলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান সংকট উত্তরণ, ক্ষমতা হস্তান্তর ও বিদায়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে। একটি হচ্ছে সম্মানজনক বিদায়, অন্যটি হচ্ছে অপমানজনক বিদায়। প্রধানমন্ত্রীকেই পছন্দ করতে হবে কোন পথে তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে চান।

যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুর মুক্তির দাবিতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান নিয়ে বিদায় নিতে হলে সমঝোতায় আসতে হবে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি সমঝোতায় না আসেন তাহলে যার কপালে যা আমাদের কিছু করার নেই।

মওদুদ বলেন, সরকার যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে রাজপথের আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আমরা জানি কিভাবে আন্দোলন করে দাবি আদায় করতে হয়। তবে প্রত্যাশা করি, সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হবে। ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা অনেক ধৈর্য্যরে পরিচয় দিয়েছি। দুই বছর কোনো কর্মসূচি দেইনি। তারপরও সরকার পরিবর্তনে জনগণের মাঝে বিরাট আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি। পরিবর্তন হবেই। সেখানে মানুষ অবশ্যই গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, আইনের শাসন ফিরে পেতে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনে নামবে। সেই আন্দোলনে যে জোয়ার আসবে সেই জোয়ার আওয়ামী লীগ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিনেও একটি মামলার চার্জশিটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার সমালোচনা করে প্রবীন এ নেতা বলেন, তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তারেক রহমারের বিচার শুরুর প্রক্রিয়াকে প্রতিহিংসামূলক। কী রকম প্রতিহিংসামূলক একটি সরকার হতে পারে যে জন্মদিনে রাষ্ট্রদ্রোহ একটি মামলায় তারেক রহমানসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে মহানগর জজ আদালতে বিচার শুরু করার আদেশ দিয়েছেন। দুদিন পর দিলে কি হতো? আসলে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা সরকারকে প্রকম্পিত করে। তাই তারা এই ধরনের ব্যবস্থা নেয়। এ সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন।

প্রতিবাদ সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মানিক ও বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরামের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বক্তব্য দেন।

সূত্র: মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here