সরকার বদলাবে : ববি হাজ্জাজ (ভিডিও)

বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার কারণেএকটা বিশাল প্রভাব পড়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। যখনই আমাকে কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না তখনই কিন্তু আমি লাগামহীন ভাবে কাজ করি। যখনই আমার মাথায় থাকবে আজ বাদে কাল আমাকে জবাব দিতে হবে। তখন কিন্তু জবাবহীনতা থাকবে না। সুতরাং এদেশেও বদল আসবে। ইতিহাস আমাদেরকে বলে সরকার বদলাবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে টিভিএনএকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে জবাবদিহিতা আসবে না তা নয়, নিশ্চয় আসবে। আমরা সবাই কাজ করছি সেটা ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু এই মুহুর্তে যারা ক্ষমতায় আছে তারা ভাবছে তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হবে না। তার জন্যই হয়ত লুটতরাজ চলছে।

সাংবাদিক উৎপল দাস ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিজার নিখোঁজের বিষয়ে জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, গুম খুনের জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। আমাদের যেনো এই খবর গুলো শুনতে না হয়। আমাদের সাথে যেনো এমনটা না ঘটে। সরকারের পরিষ্কার করতে হবে তারা কী চাইছে। আমরা কিভাবে নিশ্চয়তা পেতে পারি বা কোনো ধরণের নিশ্চয়তা আমরা পেতেই পারি না।

বিষয়গুলো সরকারের পরিষ্কার করা প্রয়োজন মন্তব্য করে আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বড় ছেলে ববি হাজ্জাজ বলেন, একমাত্র তখনই আমরা একটু ভালো ভাবে জানতে পারবো বা বিশ্লেষণ করতে পারবো এই ঘটনাগুলো কেনো ঘটছে। হতেই পারে একজন সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছেন। এটা কমপ্লিটলি তার পারসোনাল লাইফের কারণে। বা স্পিসিফিক একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক যখন নিখোঁজ হয়েছেন এটা তার পারসোনাল লাইফের কারণে হতে পারে। আবার অনেকে ভিন্ন কারণেও হতে পারেন। যেটা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো আরও সিভিয়ার কারণেও হতে পারে। যেটার দেশ জাতির উপর একটা ইফেক্ট থাকতে পারে। সেই বিষয়গুলো কিন্তু আমার আপনার ডিরেক্টলি জানার কথা না। সরকারের আমাদের জানানোর কথা। সুতারাং সরকারের জবাবদিহিতার জায়গাটা আমরা সব চেয়ে মূল বিষয় হিসেবে দেখি।

এই মুহুর্তে সরকার জবাবদিহির জায়গায় নেই উল্লেখ করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার যদি জবাবদিহির জায়গায় থাকতো তাহলে সত্যি কথা আমাদের মতো অনেকে রাজনীতিতে শক্তভাবে ওতপ্রোতভাবে আসতে হতো না। কারণ রাজনীতিতে আমরা কখন আসি। আমরা তখনই আসি যখন দেখি সরকার পরিচালনা এবং জনগণের প্রত্যেকটা অধিকার তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এই জিনিসগুলো যখন সঠিক ভাবে না হয় তখনই আমরা রাজনৈতিক কর্মকা-ে যোগ দেই।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড খেলার মতো না। মনের মধ্যে আজকে একটু শান্তি লেগেছে আজকে একটু ফুটবল খেলবো। এটা একটা কঠিন কাজ। কঠিন কাজে শখ করে স্বাদ করে যাওয়ার কথা না। পরিবারতন্ত্র বা পারিবারিক ভাবে যারা করে এসেছে বা তারা আসলে কিছু করতে চায় বা বদল দেখতে চায় তারাই রাজনীতিতে যায়। যেই পরিবেশটা আছে এটা তাদের জন্য পছন্দনীয় বা সহনীয় না। ওই বদলটা আমরা দেখতে চাই। জবাবদিহিতার জায়গায় আমরা নিতে চাই। একারণে আমরা রাজনীতিতে এসেছি।

নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে তরুণ রাজনীতিবীদ ববি হাজ্জাজ বলেন, আমি এবং আমার সাথে যারা আছে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এনডিএমের কর্মীরা আমরা সবাই ওই চিন্তা ভাবনা থেকে মনস্থির করে নেমেছি যে দেশ জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যেটারই সম্মুখীন হতে হয় না কেন আমরা সম্মুখীন হবো। আমার দেশের জনগণের নিরাপত্তাটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ্য। নিরাপত্তার জায়গায় আমরা নেই। সেই জায়গায় আমাদের আসতে হবে। সেটা নিয়ে নিশ্চয় আমি শঙ্কিত।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আজকের সরকার যে কিছুই করছে না তা নয়। অনেক কিছুই করছে। বিশেষ ভাবে আমরা যদি দুটু ধারা ধরি। একটা হচ্ছে সোসিও পলিটিক্যাল। আরেকটা হলো আপনার ল ইনফোর্সমেন্ট। ল ইনফোর্সমেন্টের ধারায় আমরা কয়েক বছর ধরে দেখছি সরকার অনেক কাজ করছে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী অনেক কাজ করছে। অনেক জায়গায় অনেক ভাবে এগিয়ে এসেছে। নিরাপত্তার দিক থেকে তারা যতখানি দরকার অনেক দূর সফলতা দেখাতে পেরেছে। কিন্তু সোসিও পলিটিক্যাল সাইটে আমরা তাকাইনি। আমরা একবারও নজর দেইনি। কিন্তু প্রবলেম হলো নিরাপত্তাহীনতা হচ্ছে সোসিও পলিটাক্যাল কারণগুলোর বিজ রোপন করে। সুতরাং বিজ রোপনগুলো হয়েই যাচ্ছে। নতুন নতুন বিজ উঠতেই থাকবে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিজগুলো উঠার পর কাটতে পারে, কিন্তু বিজ রোপনের জায়গায় আমরা এখনও কোনো কিছু করতে পারি নাই। আজকে আমরা নিবন্ধনের জন্য কাজ করছি। কিন্তু নিবন্ধিত যতগুলো দল আছে তারা কেউ কিচ্ছু করেনি। আমরা এখনও তাকিয়ে আছি তাদের দিকে। আমরা নিবন্ধন পাওয়ার আগ পর্যন্ত কাজ করছি। নিবন্ধন পাওয়ার পর আরও জোর গতিতে কাজ করবো। সরকারে গিয়ে কাজ করবো। কিন্তু এখন যারা সরকারে আছে বা সরকারে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা কেউ সোসিও পলিটিক্যাল সাইটগুলোতে যেখানে বিজরোপন হচ্ছে এটা নিয়ে তারা কেউ চিন্তা করছে না।

এ দেশের ডেমোক্রেসি, একান্টিবিলিটি সোসিও পলিটিক্যাল চেঞ্জ কোনো কিছুতে তাদের কোনো অবদান আমরা আজ পযর্ন্ত দেখতে পাচ্ছি না উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, এটা না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার সমাধান আমরা পাবো না।

দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতির পরেও মানুষ কেনো রাস্তায় নামছে না জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, জনগণ কখনো চুপ হয়ে যায় না। আপনি একটা বিষয় দেখবেন খুব সহজে ওয়েস্টার্ন ইউরোপে রাস্তায় আন্দোলন হয় না। অনেক চাপের পর অনেক ধরণের অধিকার লঙ্ঘনের পর মানুষ রাস্তায় নামেন। এখন যদি আমরা জিনিসপত্রের দাম না কমাতে পারি তাহলে মানুষ রাস্তায় নামতে বেশিক্ষণ লাগবে না।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক অপজিসনকে রাস্তায় দাঁড়াতে দিচ্ছে না। রাজনৈতক অপজিসনের বাইরেও যেখানে সরকার মনে করছে তাদের জন্য কোনো ধরনের হুমকি হতে পারে। তারা তাদেরকেও দাঁড়াতেই দিচ্ছে না। এটা বাক স্বাধীনতা থেকে শুরু করে তাদের অনেক স্বাধীনতায় সরকার লঙ্ঘন করছে।

তরুণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, আমি এটা মানতে রাজি নয় যে জনগণ এত সহজেই চুপসে যায়। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, রাজনৈতিককর্মী এরা সবাই এদেশেরই জনগণ। যখন দুই হাজার ছাত্র রাস্তায় নামবে। তখন দুই হাজার ছাত্রকে পেটানোর জন্য যদি আপনি দুই হাজার পুলিশ পাঠান। ওই দুই হাজার পুলিশের ভাতিজা ভাগিনা বা বন্ধুর ভাই কেউ না কেউ ওই দুই হাজারের মধ্যে আছেন। সবাই কিন্তু ইন্টারকানেকটেট। জনগণ দাঁড়াতে পারে কেন?

যাদের নির্যাতন বা নিপিড়ন করার জন্য পাঠানো হয় তারাও কিন্তু জনগণের অংশ উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, এ কারণেই শেষে সব সময় জনগণই জিতে। জনগণ নির্যাতনে চুপসে যাবে এটা সব সময় হয় না।

দেশের অনিয়মের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একই ফ্লাইওভার আমাদের মতো দেশগুলোতে যেখানে একশ টাকা লাগে। আমাদের দেশে লাগে দুইশ চল্লিশ টাকা। উন্নত দেশে লাগে ৪০ টাকা আর অনুন্নত দেশে লাগে ১০০ টাকা আমাদের দেশে লাগে ২৪০ টাকা। এটার কারণ কি? তাহলে কিভাবে আমরা সফলতা পাচ্ছি? এখন আপনি ২ টাকার জিনিস যদি ১০ টাকা দিয়ে কিনেন তাহলে ত আপনি ২ টাকা পেলেন না বরং ৮টাকা হারালেন। সেই ভাবেই চিন্তা করতে হবে। সরকারের জবাবদিহিতা নেই তাই এমনটা হচ্ছে। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির বিষয়ে জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের জন্য শ্রদ্ধা অনেকটাই পাল্টেছে। তার মধ্যে কিছু কারণ হচ্ছে মার্কেট ফোর্সেস। আগে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এগুলোকে প্রবিত্র স্থান হিসেবে দেখা হতো। সেই হিসেবে গুরুজন হতেন শিক্ষক। এখন মার্কেট ফোর্সেস এমন একটা জায়গায় এসেছে যে সে এখন একটা সার্ভিস দিচ্ছে। সুতরাং যিনি শিক্ষক শিক্ষার সার্ভিসটা ওনি প্রদান করছেন। ঠিক গুরুজন হিসেবে হয়ত আমরা ওই জায়গাটাই দেখছি না।

ববি হাজ্জাজ বলেন, একটা বড় ফেক্টর হচ্ছে শিক্ষায় রাজনীতি ঢুকানোর জন্য যেইসব শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির দিখে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের প্রতি একই ধরনের শ্রদ্ধা ছাত্রছাত্রীদের থাকবে এটা হয়ত আমরা আশাও করতে পারি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার ক্ষেত্রে এতো বেশি দলীয়করণ করা হয়েছে, এখন আমরা একদম রগ বটমে চলে এসেছি।

সূত্র: আমাদেরসময়

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here