মহাবিপদে আ.লীগের ৬০ নেতা

মহাবিপদে পড়েছেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের ৬০ নেতা। তারা আগামী বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। মহানগর আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের আলোকে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। মেয়র পদে দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করার সুবিধার্র্থে মহানগর আওয়ামী লীগ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। এমন সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যে কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতারা মহাবিপদে পড়েছেন। এমনকি এদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমান কাউন্সিলরও রয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করলে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। শনিবার রাতে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় কার্যনির্বাহী কমিটির এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন তিনি। দলের এ সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ‘মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় প্রতিটি ওয়ার্ডে মূল দায়িত্বে থাকেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তারা কাউন্সিলর প্রার্থী হলে নিজের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ফলে মেয়র প্রার্থীর প্রচার কার্যক্রম বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কিছু বিবেচনায় এনে মহানগর আওয়ামী লীগ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের ৬০ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিসিসির বর্তমান পরিষদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাধারণ কাউন্সিলর আছেন ৭ জন। তারমধ্যে কয়েকজন মহানগরের সম্পাদকীয় পদের পাশাপাশি ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক গাজী নাইমুল ইসলাম লিটু একই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পদধারীরা দলীয় সমর্থনে কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন। সেক্ষেত্রে প্রত্যেককে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনেই প্রার্থী হতে হবে। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও মহানগরের তথ্য এবং গবেষণা সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু ওই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী। তিনি বলেন, দলের মঙ্গলের জন্য মহানগর কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের প্রতি আনুগত্য থাকলে সবাইকে দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে হবে। বাবু বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫১ সদস্যের কমিটি রয়েছে। কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কেউ দলীয় পদ ছাড়লে মেয়র পদের নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো বিঘœ ঘটবে না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েক নেতা বলেন, এমন সিদ্ধান্তের সুযোগ নেবেন অরাজনৈতিক ও কালো টাকার ব্যক্তিরা। যার ফলে নাগরিক সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বঞ্চিত হবেন দলের পরীক্ষিত নেতারা।

এ ব্যাপারে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনেই সবাইকে চলতে হবে। দলে অনেক প্রার্থী আছেন। মহানগর আওয়ামী লীগ যোগ্য ব্যক্তিকেই কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেবে।

সূত্র: যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here