মঈন-ফখরুদ্দিনের আমলেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন সিনহা

দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের মুখে থাকা হাই কোর্টের বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে আপিল বিভাগের বিচারক ও পরে দেশের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এই মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহেমদ।

তিনি বলেন, হাই কোর্টের বিচারক থাকাকালে ২০০৮ সালে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বিচারে পক্ষপাত ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এসব অভিযোগ মাথায় নিয়ে বিচারপতি সিনহা পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, এমন এক ব্যক্তিকে পরবর্তী সময়ে প্রথমে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

এরপরে তাকে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হয়। এটি ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এ ধরনের দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের উচ্চ পদে নিয়োগ করা সমীচীন নয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকতেদার আহেমদ বলেন, ঘুষের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের পর মামলার বিচারে পক্ষপাত ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০০৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টের বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়ে পদত্যাগে সম্মত হন। কিন্তু এর কিছুদিন পরে তিনি পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এই রেজিস্ট্রার আরও বলেন, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ওই সময় যেসব অভিযোগ উঠেছিল তার তদন্ত ও বিচার হয়নি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অতিসম্প্রতি তিনি পদত্যাগ করেছেন। বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তিনি বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। এখন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সেসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার অনুষ্ঠিত হতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো বাধা নেই। আশা করি এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here