পিলখানা হত্যা: সেনাবাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে ক্ষুব্ধ হন শেখ হাসিনা

আহরাম বিডি ডেস্ক

আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা নেয়ার পরই ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত সামরিক তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করতেচাইলে তিনি বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তত্কালীন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির সঙ্গে ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শেখ হাসিনাএকথা জানান। উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন গোপন তারবার্তা থেকে একথা জানা গেছে।

বিডিআর বিদ্রোহে সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনা তদন্তে একই বছরের ২ মার্চ লে. জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সেনাবাহিনী।

এ কমিটি কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতার সাক্ষাত্কার নিতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তাতে সায় দেননি। ফলে ওইসব ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো মরিয়ার্টির গোপন তারবার্তায় বলা হয়, সেনাবাহিনী পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করায় বিরক্তি প্রকাশ করে শেখ হাসিনা তা নাকচ করে দেন।

প্রথমদিকে এ কমিটির কার্যপরিধি বিদ্রোহের সময় খোয়া যাওয়া সেনাবাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত সামরিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে সেনাবাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ায় শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হন। জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের জিজ্ঞাসাদের অধিকার শুধু পুলিশের আছে।

মরিয়ার্টির সঙ্গে ওই বৈঠকে শেখ হাসিনা আরও জানান, বিদ্রোহের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত বলে বিবৃতি দেয়ার জন্য আটক বিডিআর সদস্যদের চাপ দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন।

উল্লেখ্য, বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) সদর দফতর পিলখানায় সংঘটিত এই নৃশংস হত্যার ঘটনার পর তিন ধরনের তদন্ত শুরু হয়- বিডিআরের তদন্ত, সেনাবাহিনীর তদন্ত এবং জাতীয় তদন্ত। তদন্ত শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল, এই হত্যার বিচার সামরিক আইনে করা।

গতকাল রোববার থেকে এই মামলার আপিলের রায় পড়া শুরু করে হাইকোর্ট। ১০ হাজার পৃষ্টার রায় ও ১ হাজার পৃষ্টার পর্যবেক্ষনে আদালত বলেছেন, পিলখানায় সংঘটিত কথিত বিদ্রোহের ঘটনায় তথ্য দিতে গোয়েন্দারা কেন নীরব ছিল? , কোন রকম ষড়যন্ত্র ছাড়া এতো বড় হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে না। ৫৭ সেনা অফিসারসহ ৭৩ জনকে হত্যার পেছনে ভেতরের ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মত দেন আদালত।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here