নৌকার ব্যাজ বুকে লাগিয়ে মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে

সাধারণ মানুষ ক্ষমতা পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে- এমনটাই মনে করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে, প্রয়োজনে মানুষ নৌকার ব্যাজ বুকে লাগিয়েও ধানের শীষে ভোট দেবেন-এ আত্মবিশ্বাস তার। সম্প্রতি জাগো নিউজ’র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব ছাড়াও আরো নানা বিষয়ে কথা বলেন উত্তরাঞ্চলের বিএনপির এ কান্ডারি। নির্বাচন ও সমসাময়িক নানা ইস্যু নিয়ে তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগো নিউজ’র নিজস্ব প্রতিবেদক মানিক মোহাম্মদ।

জাগো নিউজ : বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আপনি কীভাবে দেখছেন?

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু : বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই জটিল। এটা তো আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ একটি রাজনৈতিক দলের কাছে জিম্মি। দেশে আইনের কোনো শাসন নাই। আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সর্বত্রই টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি। দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর কোনো গ্যারান্টি নাই। মানুষের কথা বলার অধিকার নাই। কেউ মুখ খুলতে পারছে না। সাংবাদিকরা সত্য কথা পত্রিকায় লিখতে পারে না। মিডিয়াগুলো তারা (সরকার) নিয়ন্ত্রণ করছে। নিউজ কোনটা যাবে, কোনটা যাবে না; কোন নিউজ আগে যাবে, কোন নিউজ পরে যাবে- এসব বিষয় যখন সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে আর কীসের গণতন্ত্র? গণতন্ত্র ধ্বংসের শেষ প্রান্তে।

দুঃখজনক বিষয় হলো আমার রাজনৈতিক জীবনের যে অভিজ্ঞতা, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে সম্প্রতি যে অবস্থা, এত খারাপ অবস্থা মনে হয় শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলেও ছিল না। দেশের মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ছিল হাইকোর্ট। সেই জায়গাটাও আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। নিম্ন আদালত বলেন, জেলা পর্যায়ে বলেন, যখন সেখানে ন্যায় বিচার না পায় মানুষ, তখন আসে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে। এখানে এসেও যদি বিচার না পায় তারা যাবে কোথায়? যাওয়ার জায়গাটা কোথায়? ১৬ কোটি মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টও শেষ। চিফ জাস্টিজ যখন তাদের (সরকারের) পক্ষে রায় দিতেন, তখন তিনি খুব ভালো ছিলেন। যখন তাদের নির্দেশের বাইরে বা তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছেন তখনই তিনি দুর্নীতিবাজ হয়ে গেলেন। যেখানে একজন চিফ জাস্টিজকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়, দেশে আসতেও বাধা দেয়া হয় সেখানে আমরা কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছি? তা বলার ভাষাও নেই, অবকাশও নেই।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় আজ যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে, সামরিক সরকারের সময়ও তো মানুষ কথা বলতে পারত। মিটিং করতে পারত। এখন আমরা আমাদের অফিসে মিটিং করব, সেটাও পারব না। মানুষ রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেক কথা বলতেই পারে। সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতেই পারে। সেটাও যদি করতে দেয়া হত! তাও তো করতে দেয়া হয় না। ঘরোয়া কোনো অনুষ্ঠানে পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে ১৫/২০ জন মিটিংয়ের চেষ্টা করলে সেটাও এখন অপরাধ! এমন মিটিংয়ের খবর জানতে পারলে সরকার হয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে বা জঙ্গি ইস্যু দাঁড় করিয়ে সাধারণ মানুষ বলেন আর রাজনীতিবিদ বলেন, জেলখানায় তাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

মানুষ অপেক্ষায় আছে কবে একটা নির্বাচন হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তন হয় না। এ নির্বাচনে কারা মেম্বার হবে, কারা চেয়ারম্যান হবে, কারা কাউন্সিলর হবে, কারা মেয়র হবে- এটা স্থানীয়রাই নির্বাচন করে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের পর্যায়ে চলে গেছে। একটা গ্রামের মানুষ আশা করে আছে তারা তাদের মেম্বারকে ভোট দেবে। যারা যোগ্য ও সৎ, যারা জনগণের খোঁজ-খবর রাখতে পারবে, তাদের মেম্বার করবে। ভোট দিয়ে সে মেম্বারও নির্বাচন করতে পারছে না। কারণ ভোট দেয়ার আগেই চুরি করে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলীয় লোককে নির্বাচিত করা হচ্ছে। এখন এমন পর্যায়ে চলে গেছে। জানি না আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচন কী হবে?

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভাকে কেন্দ্র করে আগের দিন বরিশালে লঞ্চ বন্ধ করে দেয়া হলো। ট্রেনগুলো স্লো করে দেয়া হলো। যাতে মিটিং শুরুর আগে ঢাকায় কেউ এসে পৌঁছতে না পারে। সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টঙ্গী থেকে যেসব গাড়ি ঢাকায় আসে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হলো। অর্থাৎ পরিবহনে করে যাতে মানুষ ঢাকায় আসতে না পারে। মিটিংয়ে জনসমাগম যাতে কম হয়।

আমরা এর আগেও দেখেছি জনসভার দু’তিনদিন আগে গাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়। হরতাল সাধারণত বিরোধী দলকে করতে দেখা গেলেও সরকার ক্ষমতায় থেকেই ট্রেন বন্ধ করে দেয়, গাড়ি বন্ধ করে দেয়। তারাই হরতাল পালন করে। এসব দুঃশাসন রুখতে মানুষ অপেক্ষায় আছে। আপনারা দেখেছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং শুরুর কথা বিকেল ৩টায় অথচ সকাল ১০টায় মানুষ একত্রিত হয়েছে, হেঁটে-হেঁটে সমাবেশস্থলে পৌঁছেছে।

নারায়ণগঞ্জ-মানিকগঞ্জ বিভিন্ন জায়গা থেকে গাড়িঘোড়া বন্ধ থাকার কারণে কেউ রিকশায়, কেউ হেঁটে, কেউ অটোরিকশায় করে খালেদা জিয়া কী বলেন, কী নির্দেশনা দেন, তা জানার জন্য ছুটে এসেছেন। মানুষ এখন অপেক্ষায় আছেন, কবে ক্ষমতার পরিবর্তন হবে। তারা যদি ৫০ শতাংশও নির্বাচন অবাধ-নিরপেক্ষ পায়, ভোটকেন্দ্রে যদি ভোটাররা যেতে পারেন, দরকার হলে নৌকার সিল বুকে মেরেও মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে। এ অবিচার থেকে মানুষ রক্ষা পেতে চায়। সেই অপেক্ষায় মানুষ আছে। আমি জানি না নির্বাচন কেমন হবে!

জাগো নিউজ : কিছুদিন আগেও বিএনপি রাজপথে সক্রিয় ছিল না, দলের চেয়ারপারসন লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর নেতাকর্মীরা চাঙ্গা, রাজপথে সরব হয়েছেন। হঠাৎ করে এ পরিবর্তন, এটা কিভাবে হলো?

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু : সত্য কথা বলতে আওয়ামী লীগের সময়ও শেষের দিকে। মানুষ তো অপেক্ষায় আছে। মানুষ সুযোগের অপেক্ষায় আছে। আর তো বেশিদিন নাই। এক বছরও নাই। সামনে সুযোগ আসছে। আর এক বছর হাতে আছে। এ কারণেই এ জনজোয়ার। এটা শুরু হয়েছে, আর বন্ধ হবে না, অব্যাহত থাকবে। আপনারা দেখেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে; স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এমন আন্দোলন অন্তত আমি আমার জন্মের পর দেখিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগে যা দেখেছি। ঘরে-ঘরে, বাড়িতে-বাড়িতে, পাড়ায়-পাড়ায়, গ্রামে-গ্রামে, থানায়-থানায় গাছ কেটে রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে মানুষ জানান দিয়েছিল তারা এ সরকারকে চায় না। এরপরও নির্লজ্জের মতো সরকার অবৈধভাবে জোর করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে।

তারা সবসময় বলে, পার্লামেন্টসহ বিভিন্ন স্থানে চিৎকার করে বলে, দেশ উন্নয়নে ভরে গেছে। তাদের সময় বিদ্যুৎ যায় না। তারা কুমিল্লা-ঢাকা-চট্টগ্রামে ফোর লেনের রাস্তা করেছে। তারা ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে বিদায় করে দিয়ে নিজেদের টাকায় নিজস্ব রিসোর্স থেকে পদ্মাসেতু বানাচ্ছে। ভালো কথা, ভালো কাজ করেছেন। ভোটটা নিরপেক্ষ দেন না। এত ভালো কাজ করেছেন! ভালো কাজ করলে তো মানুষের মন এমনি-ই জয় করে নেবেন। জনগণের সমর্থন পাবেন। এই যে ফ্লাইওভার বানাচ্ছেন, আমরা তো অস্বীকার করছি না। ভালো কাজ যেহেতু করেছেন, জনগণ আপনাদের চায় কি না- এজন্য আপনারা অন্ততপক্ষে প্রমাণ করার জন্য, জনমত যাচাইয়ের জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দেন। যে নির্বাচনে মানুষ তার সঠিক রায় দিতে পারে। এটা দিতে ভয়টা কিসের?

আমাদের কথা এটাই, আপনার যেহেতু ভালো কাজ করেছেন। জনগণ আপনাদের ভালো কাজের সমর্থন দেবে। আপনাদের পক্ষে নাকি আমাদের পক্ষে জনগণ, যাচাই করার জন্যই তো নির্বাচন। আমরা তো চাই একটা সঠিক নির্বাচন। যার কারণে মানুষ আজ নির্ভয়ে, সাহস নিয়ে রাস্তায় নামছে। এই নামা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

জাগো নিউজ : অভিযোগ আছে, আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আপনারা সেভাবে দাঁড়াচ্ছেন না- এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাচ্ছি?

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু : যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের অনেক ছেলে মারা গেছেন, নিখোঁজ হয়েছেন। আমরা তো একটা বিপদের মধ্যে আছি। আমরা সেসব পরিবারকে আশ্বস্ত করেছি। সময় আসলে অবশ্যই ওইসব পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, তাদের পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে; অবশ্যই আমরা সে সহযোগিতা করব। যেহেতু এখন আমরা নিজেরাই বিপদের মধ্যে আছি… তাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তাদের আশ্বস্ত করেছি, সুযোগ আসলে আমরা তাদের পরিবারকে মূল্যায়ন করব, তাদের অবদানকে মূল্যায়ন করব। যেহেতু দেশের জন্য তারা প্রাণ দিয়েছেন, আত্মাহুতি দিয়েছেন।

জাগো নিউজ : আগামীতে যদি কর্মসূচি আসে, সেক্ষেত্রে আপনার অঞ্চলের নেতাকর্মীদের কতটুকু অংশগ্রহণ থাকবে?

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু : সবসময় আমার এলাকার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই যে এত বাধা, পুলিশি নির্যাতন; এরপরও আমাদের কোনো কর্মসূচি বন্ধ নেই। অব্যাহত আছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজ নিজ অঞ্চলে দলীয় সব কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। বিএনপি চেয়ারপারসনের কোনো নির্দেশনা, কোনো আদেশ কখনোই আমরা অবহেলা করিনি, যথাযথভাবে তা পালনের চেষ্টা করেছি।

জাগো নিউজ : বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজশাহী সফর নিয়ে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। দলীয়ভাবে কতটুকু প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন?

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু : এখন পর্যন্ত তো শিডিউল ঘোষণা করা হয়নি। শিডিউল ঘোষণা হলে তার রাজশাহী সফর সফল করতে, এ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা গ্রহণ করা হবে। সে কর্মসূচি অবশ্যই আমরা সফল করব। রাজশাহীর মানুষ ম্যাডামের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল তো বিএনপির ঘাঁটি।

জাগো নিউজ : কক্সবাজারে যাওয়া-আসার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। রাজশাহী সফরে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় বিষয়ে জানতে চাচ্ছি?

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু : এটা তো নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর। যেমন ধরেন- সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে তারা বাধা দিয়েছে। গাড়িও বন্ধ করে দিয়েছে। আগের দিন হয়তো পুলিশ হয়রানি করেছে। ইতোপূর্বে রাস্তায় আমাদের কর্মীদের ওপর সরাসরি আক্রমণ করে তাদের ক্ষতি করা, মিছিলের ওপর হামলা করা হয়েছে। সত্যি কথা বলতে গেলে, হামলার ঘটনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের ক্ষেত্রে হয়নি। সরকার যদি মনে করে তাহলে কোনো বাধার সম্মুখীন আমরা হব না। এতদিন পর হয়তো তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছ। আশা করি, গণতান্ত্রিক এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

আমরা অন্য রাজনৈতিক দলের কাজে বাধা দেব না। তারা তাদের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করব। না করলে তো কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এরপরও তারা বাধা দিলে প্রোগ্রাম তো বন্ধ থাকবে না, আমরা চালিয়ে যাব। এটা একসময় মানুষ মূল্যায়ন করবে। তারা আক্রমণ করুক আর ভয়ভীতি দেখাক, আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। যত বাধা, যত কিছুই করা হোক না কেন আমাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না।

আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন বিভিন্ন সময় বাধা দেয়া হয়েছে, তারপরও কর্মকাণ্ড আমরা বন্ধ রাখিনি। চলছে। সব কিছুরই একটা শেষ আছে। এর বিচার মানুষ করবে। জনগণ করবে। সেই জনগণ সেদিনের অপেক্ষায় আছে, কবে তারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। আমরাও সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, বিচারের অপেক্ষায় আছি।

সূত্র: জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here